Thursday 8th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী,সাহায্য দেয়া যায়, কিন্তু সীমান্ত খুলে দিতে পারি না***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

সাত দিন পতনের পর সূচকের ‘অস্বাভাবিক’ উল্লম্ফন

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৪.০৫.২০১৬

দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল মঙ্গলবার সূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।

টানা সাত দিন দরপতনের পর গতকাল এক দিনেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০১ পয়েন্ট বা প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়েছে।অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকও বেড়েছে ৩০৮ পয়েন্ট বা প্রায় আড়াই শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে এক দিনে সূচকের এমন উল্লম্ফন ঘটেনি। এ কারণে গতকালের সূচকের এমন ঘুরে দাঁড়ানোকে কেউ কেউ ‘অস্বাভাবিক’ বলেই মনে করছেন।
এদিকে, সূচকের বড় উল্লম্ফনের দিনেও দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গতকালের বাজারে বিক্রির চাপ ছিল খুবই কম। অন্যদিকে ক্রেতার দিক থেকে চাহিদা কিছুটা বেশি ছিল। এর ফলে সূচক দ্রুতগতিতে বেড়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল বাজারে সূচকের যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তা মোটেই স্বাভাবিক কোনো আচরণ নয়। বাজারের ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে কৃত্রিমভাবে এ সূচক বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে না হলেও নিকট অতীতে আমরা বাজারে এ ধরনের প্রবণতা দেখেছি। স্বাভাবিকভাবে সূচকে গতিসঞ্চার হলেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেনদেনও বাড়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। তাই বাজারের স্বাভাবিক আচরণ ভবিষ্যতে কী হবে, তা বুঝতে হলে আরও কয়েক দিনের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’
গবেষক ও শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল সূচকের গতকালের উত্থানকে অস্বাভাবিক বলে মনে করলেও কিছুটা ভিন্নমত বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমানের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের টানা দরপতনের পর এমন আচরণ খুব বেশি অস্বাভাবিক নয়। কারণ, টানা যখন শেয়ারের দাম কমতে থাকে, তখন একপর্যায়ে এসে বিক্রির চাপ কমে যায়। তখন ক্রেতার চাহিদা সামান্য বাড়লে তাতে সূচকে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে।ছায়েদুর রহমান আরও বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে যে নীতি-সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এত দিন একধরনের ধোঁয়াশা ছিল। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের সংশয় কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে বাজারে।তবে শেয়ারবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে যে নীতি-সহায়তার কথা বলা হচ্ছে বাজারে তার কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে মোহাম্মদ হেলালের মনে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে যেনীতি-সহায়তার কথা বলা হচ্ছে, তাতে বাজারে শেয়ারের বিক্রির চাপ হয়তো কিছুটা কমবে। কিন্তু তাতে চাহিদাবাড়াতে অর্থের জোগান বাড়বে না। বাজারে এ মুহূর্তে দরকার চাহিদা বাড়ানো। ব্যাংকগুলো যে সুবিধা দিচ্ছে, তাতেখুব বেশি চাহিদা বাড়বে বলে মনে হয় না।’বিএমবিএর সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে যে সহায়তার ঘোষণা দেওয়াহয়েছে, শেয়ারবাজারের জন্য সেটি ছিল মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা।এদিকে, লেনদেনের শুরু থেকে গতকাল দুই বাজারেই সূচক ছিল বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতেআরও গতি সঞ্চার হয়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৭২ পয়েন্টে। এদিনডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৬৩টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র২৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দাম। দিন শেষে ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০৬ কোটিটাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৫ কোটি টাকা কম।