Print

বিদেশী কূটনীতিকদের কঠোর পদক্ষেপ
জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ৩০.০৯.২০১৫

গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যাকান্ড কে ছোট করে দেখছে না বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল কূটনীতিকরা।

এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রতি খুবই কঠোর হতে যাচ্ছে তারা। ইতোমধ্যে ঢাকার যে সকল এলাকায় বিদেশিদের আনাগোনা ছিল সেখানে আজ বিদেশিদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঢাকায় কর্মরত প্রায় সব দেশের কূটনৈতিকেরা অংশ নেন। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ও তুরস্কের নতুন রাষ্ট্রদূতের সম্মানে চা চক্র হিসেবে এ বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। তবে প্রাসঙ্গিকভাবে বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।েএ বিষয়ে জানতে চাইলে মিসরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত জানান, আলোচনার একপর্যায়ে আমরা কূটনৈতিক কোরের ডিনকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি লিখতে অনুরোধ করেছি। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইতালির নাগরিক হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তার আসল কারণ কী, তা জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হবে। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই সরকারের কাছে আমরা ব্রিফিং শুনতে চাই। এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।এক প্রশ্নের উত্তরে মিসরের রাষ্ট্রদূত বলেন, এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ওই আলোচনার প্রায় শেষের দিকে পৌঁছান ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক।সকালের ওই বৈঠকের পর দুপুরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) ম. খুরশেদ আলমের সঙ্গে তার দফতরে দেখা করেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু। তারা আসন্ন বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠকসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় পিয়েরে মায়াদু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ব্রিফিংয়ের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।অপরদিকে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর এবার কানাডা তাদের ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করেছে। মঙ্গলবার কানাডা হাইকমিশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বার্তার কথা উল্লেখ করেছে। তাতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষে পশ্চিমা স্বার্থে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের বরাত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না এবং ওই হামলা নির্বিচারে চলতে পারে। সন্ত্রাসী হামলা যেকোনো সময় ঘটতে পারে এবং বিদেশি নাগরিক ও বিদেশি পর্যটকেরা চলাচল করে এমন জায়গা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করার আগে পশ্চিমা একটি দেশ গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছিল। তারা আরও জানায় যে ভ্রমণবিষয়ক বার্তাগুলো ওই সব দেশের রাজধানী থেকে হালনাগাদ করা হয়।তাবেলা সিজারকে হত্যায় শোক ও নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইইউর সদর দফতর থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে ইইউর মুখপাত্র বলেন, ওই হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচার করতে হবে।