Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

ইন্টারভিউয়ে প্রার্থীর মিথ্যাচার এবং নিয়োগকর্তার করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক  | তারিখঃ ১৪.১০.২০১৫

ক্যারিয়ার বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ লিজ রাইয়ান।

এখানে তিনি তুলে ধরেছেন প্রার্থী বাছাইয়ের সময়কার কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা। কিছু নিয়োগকর্তা আছেন যারা হিংস্র ভাব নিয়ে ইন্টারভিউ নিতে বসে থাকেন। চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন যেন তারা গরু-ছাগল। এমন মানসিকতাসম্পন্ন নিয়োগ কর্তারা অবশেষে মেধাবী ও দক্ষদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়ে নেন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সেই পুরনো আমলের গতানুগতিক পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ইন্টারভিউ মানেই প্রার্থীরা কাছে এক ভয়াবহ পরিবেশ। এ ক্ষেত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে নানা মিথ্যার আশ্রয় নেন প্রার্থীরা। তাদের বক্তব্য হলো, অন্যান্য প্রার্থীরাও এমন করেন। তাদের দেখে তাই আমরাও করে থাকি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভয় এবং অবিশ্বাস ভর করলে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। নিয়োগদাতারা অযোগ্য প্রার্থী নিয়োগের ভয়ে থাকেন। তাই এই অবস্থা এড়াতে তারা এমন পথে যান যেখানে আবার সত্যিকার মেধাবীরা বিশ্বাস হারান। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনেক মানবিক ও সহনশীল হওয়া উচিত।
আবার এমনও ঘটনা ঘটে যেখানে, চাকরিদাতারা সুষ্ঠুভাবেই কাজ শেষ করতে চান। কিন্তু প্রার্থীরা আবার মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ধরা খেয়ে যান। হয়তো এমনিতেই ওই প্রার্থীকেই তারা নিয়ে নিতেন। প্রার্থীর এ ধরনের ভুলের মাশুল তাকেই দিতে হয়। কারণ মিথ্যার আশ্রয় নিলে চাকরিদাতারাও ব্যথিত হন। বিভিন্ন উপায়ে প্রার্থীদের মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। একটি উদাহরণ টেনেছেন বিশেষজ্ঞ। একবার লিজ এবং তার সহকর্মীদের কাছে ৩টি সিভি আসে তিন চাকরিপ্রার্থীর। একটি সিভিতে চোখ আটকে যায় লিজের। একজনকে তার আগের অফিসের সহকর্মী বলেই মনে হলো। তিনি নিশ্চিত হলেন যে, এ প্রার্থীই তার আগের অফিসে ছিলেন। কিন্তু ওই প্রার্থী সেখানে যে কাজ করতেন, তা সিভিতে উল্লেখ করেননি। তিনি অন্য পদের কথা উল্লেখ করেছেন। এ অফিসে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য করে তুলতে তিনি আগের অফিসের পদবীই বদলে দিলেন।

অনেকে আবার তার শিক্ষাজীবন নিয়ে নানা ভুল তথ্য দেন। খুব সাধারণ একটি হিসাব। অনলাইনে তো বটেই, সম্ভব না হলে ওই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অফিস থেকে সহজেই তার সার্টিফিকেট পরখ করে নেওয়া যায়। তাই প্রশ্নকর্তাদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলেছেন লিজ। একজন প্রার্থী যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তাকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে বোঝা যাবে, তিনি সত্যি কথা বলছেন কিনা। এর অর্থ এই নয় যে, প্রার্থীকে উত্তরটা জানতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কিছু ট্রেডমার্ক শব্দ বা তার সম্পর্কে নানা তথ্য তিনি জানবেন। আবার কিছু মুখস্থ শব্দ ছাড়লেও চলবে না। তাই চাকরিপ্রার্থীরা যে বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন, প্রশ্ন করতে হলে প্রশ্নকর্তাকেও সে বিষয়ে কিছু তথ্য জেনে রাখা উচিত।
সূত্র : ফোর্বস