Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে বধ করলো বিসিবি একাদশ

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ ১৫.০৪.২০১৫

একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে ১ উইকেটে হারালো বিসিবি একাদশ। বিসিবির জয়ের নায়ক সাব্বির রহমান। এদিন তিনি ১২৩ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন।

বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় ম্যাচটি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানকে সতর্ক সূচনা এনে দেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ ও আজহার আলী। বাংলাদেশের দুই পেসার আল-আমিন ও মোহাম্মদ শহীদকে দেখেশুনে খেলেন ডানহাতি এই দুই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের শুরুতে দুই প্রান্ত থেকে টানা ১২ ওভার করে যান আল-আমিন ও শহীদ।

১৩তম ওভারে বোলিংয়ে প্রথম পরিবর্তন আনেন নাসির হোসেনের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করা মুমিনুল হক। প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে বোলিংয়ে আসেন মুক্তার আলী। নিজের প্রথম ওভারে ১০ রান খরচ করলেও দ্বিতীয় ওভারে ব্রেক থ্রু এনে দেন মুক্তার। দলীয় ৬৬ রানে আজহার আলী মুক্তারের বল কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন। ৪৯ বলে ২৭ রান করেন আজহার।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে আবারও দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যান মোহাম্মদ হাফিজ ও হারিস সোহেল। ৬৪ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান।

দলীয় ১৩০ রানে হারিস হোসেলকে প্রথমে সাজঘরে ফেরত পাঠান শুভাগত। অফস্পিনারের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কভারে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন সোহেল (২৩)। ২৮তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দেন শুভাগত। সেঞ্চুরির পথে থাকা হাফিজকে আউট করেন শুভাগত। মুক্তার আলীর হাতে ক্যাচ দেন হাফিজ। ৭৯ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৫ রান করেন প্রফেসর খ্যাত হাফিজ। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও টিকতে দেননি শুভাগত। কাট করতে গিয়ে শুভাগতের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন রিজওয়ান।

শুভাগতের তিন উইকেটে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। এরপর দ্রুতই আরও তিন উইকেট তুলে নেয় বিসিবি একাদশ। দলীয় ১৬৮ রানে উইকেটরক্ষক সরফরাজ (৬), ১৭৩ রানে সাদ নাসিম (১), ১৮৫ রানে ওয়াহাব রিয়াজ (৭) আউট হন।

প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ১৪ জনের স্কোয়াডের যেকোনো খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে পারেন টিম ম্যানেজম্যান্ট। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যান আসাদ শফিককে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামায় পাকিস্তান। কিন্তু সফরকারী শিবিরকে হতাশ করেন ছোট্ট আসাদ শফিক। ৮ বলে ৫ রান করে সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

২০৩ রানে আসাদ শফিফকে হারানোর পর নবম উইকেটে ফাওয়াদ আলম ও ইয়াসির শাহ ২৫ রান যোগ করেন। এই জুটি ভাঙেন তাইজুল। ৯ রান করে এলবিডাব্লিউয়ের শিকার হন ইয়াসির।

একপ্রান্তে উইকেট হারাতে থাকলেও ফাওয়াদ আলম দলের রানের চাকা সচল রাখেন। নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ফাওয়াদ। তাইজুল ইসলামের করা ৪৯তম ওভারে প্রথম তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ফাওয়াদ। এরপর শেষ বলে আরো একটি বাউন্ডারি হাঁকান বাহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৭ রান করেন ফাওয়াদ। তার সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন সাঈদ আজমল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বিসিবি একাদশের। দলীয় ৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার রনি তালুকদার (০) ও তামিম ইকবাল (৯)। রাহাত আলীর বলে তামিম এলবিডব্লিউ এবং জুনাইদ খানের বলে রনি ইয়াসির শাহর হাতে ক্যাচ দেন। দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সাব্বির রহমান ও লিটন দাস। তবে দলীয় ৪৩ রানে সাঈদ আজমলের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচে পরিণত হন লিটন। ২৭ বলে তার সংগ্রহ ২২ রান।

৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে টেনে তোলেন সাব্বির ও অধিনায়ক মুমিনুল হক। দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। তবে মুমিনুলকে ফিরিয়ে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন ইয়াসির শাহ। এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন ১২ রান করা মুমিনুল। এরপরই ইমরুল কায়েসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির। দুজনে মিলে দলের স্কোর ১৫০ পার করেন। ইনিংসের ৩৪তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করেন সাব্বির। ৮৪ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর সাব্বির-ইমরুল মিলে দলের স্কোর ২০০ পার করেন। ২০৫ রানে ইমরুলকে ফিরিয়ে ১২৪ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ। ৫৬ বলে ৩৬ রান করেন ইমরুল। খানিক বাদে জুনাইদ খানের পর পর দুই বলে ফিরে যান সাব্বির ও শুভাগত হোম। ৯৯ বলে ৮ ছক্কা ও ৭ চারে ১২৩ রানে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন সাব্বির।