Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম
তারিখঃ ২৬.০৩.২০১৫

জেলার মেঘনায় ও তেতুঁলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কারেন্ট জাল দিয়ে দেদারসে জাটকা নিধন চলছে। দেখার যেন কেউ নেই। প্রতিদিন প্রশাসনের নাকের ডগায় জেলেরা জাটকা মাছ নিয়ে বিক্রি করছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে।

মাছের বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই দুই মাসে মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে মনপুরার চর পেয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তুম পযন্ত ১শ কিলোমিটার জায়গা মাছের অভয় আশ্রম এলাকায় ঘোষণা করেছে সরকার।

এই এলাকার মধ্যে এই দুই মাস সকল প্রকার মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু জেলেরা এসবের কিছুতেই তোয়াক্কা করছে না। তারা দেদারসে মাছ ধরছে দিনে রাতে। জেলেরা অনেকটা খোলামেলাভাবেই নদীতে মাছ ধরছেন। আবার কিছু কিছু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা কী বা তা কখন থেকে তাও জানে না।

জেলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন মনপুরাসহ ৭ উপজেলার গ্রামে-গঞ্জের হাট বাজারে এমনকি ফেরি করে এখন বিক্রি হয় জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ । এতে মাছের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

গ্রামগঞ্জের হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২৫০ গ্রামের প্রতি হালি জাটকা বিক্রয় হচ্ছে ১২০ থেকে দেড়শ টাকায়। আবার ৪শ থেকে ৬শ গ্রামের প্রতি হালি জাটকা বিক্রয় হচ্ছে ৭শ থেকে ৮শ টাকা।

লালমোহনের মেঘনার জেলে শফিক ও আলামিনসহ একাধিক জেলে জানান, এ সময়ে নদীতে প্রচুর পরিমাণ জাটকা ধরা পরে। তাই আমরা নদীতে মাছ শিকার করতে যাচ্ছি। সরকারিভাবে যেসব বরাদ্দ আসে তা আমাদের মাঝে এসে পৌঁছায় না। ইলিশ মৌসুমে এর বিরূপ প্রভাব পরতে পারে বলেও তারা ধারণা করেন।

লালমোহন উপজেলা জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ মিয়া জানান, জেলেদের পুরর্বাসন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বরাদ্দ নিয়ে মৎস্য অফিসের লোকজন আমাদের সাথে কখনও কোনো আলোচনা করে না। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে বেকার জেলেদের পুনর্বাসনের সুবিধা বিতরণেও নয় ছয় করা হয়।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলার মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা আলী আহম্মদ আকন্দ জানান, নদীর এড়িয়া বড় হওয়ায় আমরা একদিকে অভিযান পরিচালনা করলে অন্যদিকে জেলেরা মাছ ধরছে। আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালাচ্ছি। যারা আইন অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার জানান, ভোলার ইলিশা থেকে মনপুরা উপজেলার চরপিয়াল এবং ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেয়া হয়েছে। কোস্টগার্ডসহ আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যহত চলছে।