Tuesday 25th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত * রাজধানীতে কালবৈশাখীর ছোবল * আজ পবিত্র শবে মেরাজ * ৪ বছর পরও রানা প্লাজায় আর্তনাদ * রাজধানীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা * ঢাবিতে ফের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ * যুবদল-ছাত্রদলের কমিটি গঠনের নির্দেশ খালেদার **

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

তিন বছরের কাজ ছয় বছরে, তাও শেষ মাত্র ৬০ ভাগ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০১.২০১৭

বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাসের নির্মাণকাজ ছয় বছরে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

অথচ পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল তিন বছরে। বর্তমানে জরাজীর্ণ তিনটি টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে বাস করছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের অধ্যক্ষ স ম ইনাম উল হাকিম বলেন, কলেজে এইচএসসি, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শ্রেণি মিলিয়ে অন্তত ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। অধিকাংশেরই বাড়ি দূরবর্তী এলাকায়। কিন্তু ছাত্রাবাস আছে মাত্র ছয়টি। সেখানে মাত্র দুই হাজার শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। তার ওপরে জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাস নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছাত্রাবাসটি যথাসময়ে নির্মাণে যুক্ত জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বেশ কয়েকবার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও কলেজ প্রশাসন সূত্র জানায়, বিএম কলেজের টিনশেডের পুরোনো ঘর তিনটি হিন্দু হোস্টেল নামে পরিচিত। সেটির স্থলে পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ। এর নাম দেওয়া হয় কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাস। ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ নির্মাণকাজের জন্য ২০০৯ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আতিক কনস্ট্রাকশন কাজ পায়। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই ছাত্রাবাসের ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী চিন্ময় বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রাবাসটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। মাঝপথে কাজটি অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ অসমাপ্ত ফেলে রাখে।

সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চায়। এরপর আমরা পুনরায় কাজের দায়িত্ব নিয়েছি এবং এখন কাজ শুরু করেছি। আশা করি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।’ যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় আন্দোলনও করেছেন। হিন্দু হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোহাগ দাস বলেন, ভবনটি দ্রুত নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন। কিন্তু এত বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হলো না। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যে টিনশেডের ঘরগুলোয় থাকেন, সেগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই। পুরোনো ওই ঘরগুলোর জানালা ভেঙে গেছে। ফলে শীতের সময় তীব্র ঠান্ডায় কষ্ট পেতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর টিনের চালা মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে শিক্ষার্থীদের বইপত্র ও বিছানা ভিজে যায়। এ ছাড়া তিনটি ঘরে ৬০ জনের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে ১২০ জন থাকছেন। ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, নির্মাণাধীন ছাত্রাবাসটি ১২০ শয্যার। কিন্তু এতে ২০০ শিক্ষার্থী অনায়াসে থাকতে পারবেন। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কাজটি নিয়ে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় ছিলাম। কারণ, এই প্রকল্পটি সরাসরি রাজস্ব খাতের অর্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের অর্থ পেতেও একটু সমস্যা ছিল। এখন কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’