Print

ভোটের আমেজ কেড়ে নিল ‘খুনের রাজনীতি’

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০৩.২০১৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে হঠাৎ করেই যেন উধাও হয়ে গেছে নির্বাচনের সব ধরনের আমেজ। ভোট উৎসবের পরিবর্তে এখন এলাকায় ভর করেছে আতঙ্ক।

একটি খুনের ঘটনা রাতারাতি পাল্টে দিয়েছে এ ইউনিয়নের ভোটের আবহ।

গতকাল সোমবার রাতে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর চাচাতো ভাই ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশ্রাফ ফকিরকে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা করে দুর্বত্তরা। নিহতের পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন ও বাউফল উপজেলা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দফায় দফায় আদাবাড়িয়া নওমলা সড়কের কাশিপুর, মিলঘর এলাকায় বিক্ষুব্ধরা আশ্রাফ ফকিরের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মিছিল করে। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে। এ কারণে লোহালিয়া ও বাউফলের সঙ্গে বিকল্প সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল শুরু হয়।

অন্যদিকে একই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকে বাউফল থানার সামনে অবস্থান করে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দুপুরে জেলা প্রশাসকের গাড়ির পথ রোধ করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামানের অপসারণ ও প্রত্যাহার দাবি করে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) স্মারকলিপি দেয়। 

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলা সভা করার জন্য বাউফলে অবস্থান করছেন। 

বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ জানান, আশ্রাফ ফকিরকে ধরে নিয়ে পুলিশের সামনেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের কাছে আকুতি-মিনতি করেও এলাকাবাসী কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকী জানান, থানার সামনে পৌঁছামাত্রই আওয়ামী লীগকর্মীরা গাড়ি থামিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে ওসিকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। দুপুরের পর আইনশৃঙ্খলা সভা আহ্বান করা হয়েছে। চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সভায় থাকবেন বলেও জানান ডিসি।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ থানা ঘেরাওয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে।