আজ শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.১০.২০১৭

দুর্যোগ এলেই সবার আগে আঘাতা হানে দক্ষিণাঞ্চলে। ঝড় তুফান এলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হন পটুয়াখালীর মানুষজন।

গাছই হতে পারে এই ঝড় তুফান থামানোর জন্য সবচেয়ে বড় দেয়াল। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে সমুদ্র উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ বৃক্ষ রোপন অভিযানে নেমেছে। জান-মাল রক্ষার্থে ব্যাক্তি উদ্যোগে প্রতিটি বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে হাজার হাজার ফলোদ ও বনজ গাছের চরা রোপন করছে তারা। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ যেন সবুজ বিপ্লবে নেমেছে। চারিদিকে শুধুই সবুজের সমারোহ।

এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা রাস্তার দু’পাশেও চারা গাছ রোপণের কাজ শুরু করেছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় একসময় প্রাকৃতিক সবুজ দেয়াল তৈরী হবে এমটাই মনে করছেন পরিবেশবাদিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বালিয়তলী, মিঠাগঞ্জ, ডালবুগঞ্জ ও মহিপুর ইউনিয়নের ছয় কিলোমিটার সড়কের উভয় পার্শ্বে চার হাজার বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। ওইসব গাছের চারা রক্ষণাবেক্ষনের দ্বায়িত্বে থাকবে স্থানীয় ওয়ার্ড দূর্যোগ কমিটি। চারা গাছ বিক্রেতা উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের মেহেদী হাসান জানান, তিনি প্রায় দেড় লক্ষাধিক গাছের চারা বিক্রি করেছেন।

অপর চারা গাছ বিক্রেতা কবির, জাহিদ,বাবুল, হালিম এ বছরই এক থেকে দেড় লাখ ফলদ ও বনজ চারা গাছ বিক্রি করেছেন। তারা জানান, লাভজনক হওয়ায় সবাই চারা গাছ রোপনের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। তাছাড়া এ আঞ্চলের মানুষের চারা গাছ লাগানোর আগ্রহ বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, একমাত্র গাছই পারে তাদের জীবন বাঁচাতে, এ ধারণায় ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামের বাড়ির উঠান ও পরিত্যক্ত জমিতে চারা গাছ রোপণ শুরু করেছে তারা।

ধলাসার ইউনিয়নের লুৎফুল হাসান জানান, সামান্য ঝড় হলেই ঘর বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড় বাতাস থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসিরা এখন বাড়ির চারপাশে দ্রুত বর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছে। নিজেও শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করেছেন বলে তিনি জানান।

ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ উপজেলা সমন্বয়কারী জেমস রাজিব বিশ্বাস জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টিয়ার ফান্ড, সিডর ফান্ড ও ইন্টারএক্ট’র অর্থায়নে ওইসব ইউনিয়রে গুরুত্বপূর্ন সড়কে এ বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সরকারি ভাবে এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলোদ, বনজ ও ঔষধী গাছের বিতরণ করা হয়েছে। এলাকার লোকজন এভাবে যদি চারা গাছ রোপন করে তা হলে এক সময় এ সমুদ্র উপকূলীয় এলকায় সবুজ বেস্টনী তৈরী হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।