Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

বিডিনিউজডেস্ক.কম

তারিখঃ ২৬.০৫.২০১৫

শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় হল উচ্চ শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উপাত্ত জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ (creation and decimination of knowledge)।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার এই জায়গায় জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় যেমন বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কম বেশি হলেও কোন ক্ষেত্রেই অগ্রাহ্য করার মতো নয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যবধান লক্ষ্য করা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সকল শাখায় সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড থেকে অনুমোদিত ও প্রকাশিত বইয়ের সীমিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে শিক্ষা দান করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অধিক সংখ্যক পাঠ্যবইয়ের লেখক ও প্রকাশক বিদেশী যাদের সরবরাহ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় তথ্যপ্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তিভিত্তিক সুযোগ সুবিধা হতে হবে অত্যাধুনিক ও অগ্রবর্তী। যেমন শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেই হবে না, তা হতে হবে উচ্চগতি সম্পন্ন। ইলেক্ট্রনিক বুক (e-book), ই-পাঠ্যবইয়ের (e-textbook), ই-জার্নাল (e-joual), দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ (research article) এর সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণ। গবেষণার নমুনা, উপাত্ত সংগ্রহ, কার্যপদ্ধতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রকাশনা সংস্থার সাথে নিবিড় সম্পর্কের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। প্রচলিত গ্রন্থাগার ব্যবস্থায় হাজার হাজার বই সারিবদ্ধ বা স্তূপাকারে রাখার ক্ষেত্রে অধিক জায়গা, জনবল ও অর্থ খরচ কমাতে এবং সহজবোধ্য করতে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক পাঠাগার (e-library) স্থাপন অন্যতম উপায়। নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণে প্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষা অত্যাবশ্যকঃ

ক. পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদা মেটাতে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি সহ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় দক্ষ কর্মী ও নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যে গ্রহণযোগ্য উন্নতমানের শিক্ষা, গবেষণা, ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

খ. কৃষি, মত্স্য, পশুসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী প্রদান এবং বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ।  

গ. উন্নততর ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বহুমুখী সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অংশীদারিত্তের ভিত্তিতে সাধারন মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও জ্ঞান বিতরণ।

ঘ. শিক্ষা ও গবেষণালব্ধ তথ্য ও উপাত্তসমূহ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সমপ্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণ।

চ. বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্বিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক বহুমুখী জ্ঞানচর্চার উন্মুক্ত প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষে শুধু তথ্যপ্রযুক্তির উপকরণের যথাযথ সরবরাহ থাকলেই হবে না, সেগুলোর উপযুক্ত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যাবশ্যক। প্রযুক্তিভিত্তিক উপকরণের যথাযথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শ্রেণীকক্ষ ও ব্যবহারিক গবেষণাগারের ডিজাইন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যেমন শ্রেণীকক্ষে অধিক জানালা সহ আলোক প্রাচুর্যতা বেশি হলে এবং আলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকলে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রের বিভিন্ন রঙের মধ্যে ব্যবধান নিশ্চিত করা যায় না। সেক্ষেত্রে সেই চিত্রটি শিক্ষক তার ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে যেরকম সুন্দর দেখতে পাচ্ছেন ছাত্ররা কিন্তু সেরকম দেখতে পায় না। সকল প্রযুক্তিভিত্তিক উপকরণের যথোপযুক্ত সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের পূর্বশর্ত হল নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকা কিন্তু আমাদের দেশে লোডশেডিং প্রযুক্তিভিত্তিক সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। তাই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিভিত্তিক উপকরণ সরবরাহ সহ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে পারে। উচ্চ শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে Higher Education Quality Enhancement Project (HEQEP) এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্প চলমান। শিক্ষকদের বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষণ, বৃত্তি, স্মারকচুক্তি স্বাক্ষর (Momurandum of understanding) এর ফলে বাংলাদেশের বর্তমান উচ্চ শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অধিকতর অগ্রগামী ও কার্যকরী করতে পারে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দিনদিন বেড়ে চলায় প্রযুক্তিভিত্তিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল অপরিহার্য । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান অগ্রসর বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানসহ, পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি ও সমপ্রসারণকল্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় কারিগরি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আরও স্থাপন করা প্রয়োজন।