Saturday 3rd of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ট্যাংক-লরি-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদের ডাকা ধর্মঘট স্থগিত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

সরকারি দলের প্রার্থীদের একচ্ছত্র আধিপত্য ..

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২২.০৩.২০১৬

বরিশালের গৌরনদী, উজিরপুর ও আগৈলঝাড়ার ১৭টি ইউনিয়নের সব ভোটকেন্দ্রই মোটামুটি বাধাহীনভাবে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীরা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্রোহী ও বিএনপির প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে ভোটার, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের লোকজন কেন্দ্র দখল করে নেন। তাঁরা বিরোধী চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেন। গৌরনদী উপজেলার সমরসিংহ ভোটকেন্দ্রে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আকন সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে সব কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। ঘাটাইল কেন্দ্রে এজেন্ট মো. নূর আলম, মো. মহসিনকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করা হয়। এ কারণে তিনি সকাল ১০টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, অভিযোগ দেওয়ার পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেনে, ‘আমি কোনো অভিযোগ পাইনি।’
চাদশী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী তাইফুর রহমান অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের সব কেন্দ্র দখল করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীরা। পশ্চিম শাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ধানের শীষের কোনো এজেন্ট নেই। মহিলা বুথে নৌকার এজেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন যুবলীগ কর্মী রাসেল ও আনোয়ার হোসেন। মহিলা বুথে আপনারা কী দায়িত্ব পালন করছেন জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘মহিলা এজেন্ট না থাকায় আমরা এজেন্টের দায়িত্ব পালন করছি।’ ভোটার আবুল কাসেম (৫৫) বলেন, ‘মোর হাত থাইক্কা চেয়ারম্যান ব্যালট নিয়া হেরা ইচ্ছামত সিল দিছে, মুই খালি মেম্বর ভোট দিছি।’ অভিযোগের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষ্ণ কান্ত দে বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক নয়, আমার বন্ধু বিএনপির প্রার্থী এজেন্টই দিতে পারেননি।’

আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। বাকাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবণ্য আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করেছে সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকেরা। তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের মজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিএনপির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, কেন্দ্র দখল নিয়ে ভোটারদের হাত থেকে চেয়ারম্যান ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সিল দিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ বলেন, ‘নির্বাচনের নামে কেন্দ্র দখল করে নেওয়ার ভোট। কেউই ভোট দিতে পারছেন না।’ আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিশ্বজিৎ হালদার এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘তাঁরা নিজেদের ভরাডুবির আশঙ্কায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ সত্য নয়।’