Print

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কলেজছাত্র নিহত

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৭.০৩.২০১৬

বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত শুক্রবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক ব্যক্তি।
ওই কলেজছাত্রের নাম মামুন তালুকদার (২৩)। তিনি বেতাগী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বাড়ি হোসনাবাদ গ্রামে।
কলেজছাত্রের পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, হোসনাবাদ গ্রামের গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তৈয়ব আলী ও মনির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে তাঁর ছেলে আবুল কালাম ও ভাই কবির হোসেনসহ আট-দশজনের একটি দল রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তৈয়ব আলী ও মনিরের ওপর হামলা চালাতে তাঁদের বাড়ি যায়। একপর্যায়ে মনির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় গোলাম মোস্তফার চাচাতো ভাই কলেজছাত্র মামুন তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ভাইসহ অন্যরা মামুনকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরে গ্রামের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতেই দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে মামুন মারা যান। মনিরের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে মামুনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শনিবার সকালে হোসনাবাদ গ্রামের বিক্ষুব্ধ লোকজন গোলাম মোস্তফা, তাঁর স্ত্রী কল্পনা বেগম, ছেলে আবুল কালাম, জামাতা অনিক ও পুত্রবধূ আকলিমা বেগমকে আটক করে বেতাগী থানায় সোপর্দ করে।
গতকাল বিকেলে জানতে চাইলে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোলাম মোস্তফাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।