Print

‘ফকিরের’ হিসাবে ১০ হাজার কোটি টাকা!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ০৬.০৪.২০১৬

এক কোটি টাকা নয়, দুই কোটি টাকাও নয়; পুরো ১০ হাজার ৪২ কোটি টাকা।

এই টাকা ছিল একজন ব্যাটারিচালিত অটোবাইক চালকের ব্যাংক হিসাবে। তবে ওই টাকা হাতে পাননি তিনি। কেননা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই দিনই তা শুধরে নেয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটলেও এই নিয়ে জানাজানি হয় সম্প্রতি।

অটোবাইক চালকের ব্যাংক হিসাব পটুয়াখালীর জনতা ব্যাংক প্রধান শাখায়।

ব্যাংক সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া এলাকার অটোবাইক চালক সোহাগ ফকিরের নামে জনতা ব্যাংক পটুয়াখালী প্রধান শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। যার নম্বর- ০১০০০০১৮৭২০০০৫। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের জনতা ব্যাংক বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা থেকে পটুয়াখালী প্রধান শাখার গ্রাহক সোহাগ ফকিরের সঞ্চয়ী হিসাবে ১০০ টাকা জমা করা হয়। কিন্তু তাঁর হিসাবের ব্যালেন্সে ১০ হাজার ৪২ কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭ টাকা ৮৩ পয়সা পাওয়া যায়। জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালী প্রধান শাখার কর্মকর্তারা দিন শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখতে পান, একই ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ী শাখা থেকে অটোরিকশা চালক সোহাগ ফকিরের হিসাবে ওই টাকা জমা হয়েছে। ভুল বুঝতে পেরে ওই হিসাবে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাও ওই ব্যাংক হিসাবের অ্যাকাউন্টটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে।

জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালী প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কম্পিউটার সফটওয়্যারের ভুলের কারণে এই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। ব্যালান্স যাচাইয়ে বিষয়টি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই হিসাবের গ্রাহককে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ ধরনের কোনো লেনদেন করেননি, এমনকি কাউকে অ্যাকাউন্ট নম্বর দেননি বলে জানিয়েছেন।’

এদিকে সোহাগ ফকির পটুয়াখালীর লোহালিয়া-বাউফল রুটে যাত্রী বাহন অটোবাইক চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন। তাঁর বাড়ি ওই এলাকায়। তাঁর হিসাবে এত টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

পটুয়াখালী জনতা ব্যাংক প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ এ বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি বিভাগে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়ে জানান, এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভুলবশত ওই লেনদেন হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। যা আইসিটি ডিপার্টমেন্টের (অপারেশন) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সঞ্চয়ী হিসাবের সামগ্রিক লেনদেন যাচাই করে দেখা গেছে, বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন শাখা থেকে ওই হিসাবে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে এবং ফেরত গেছে। অথচ ওই হিসাবের গ্রাহক এই ধরনের কোনো লেনদেন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সোহাগ ফকির বীমা কোম্পানিতে একটি জীবনবীমা করেছিলেন, যার একটি লভ্যাংশ পেয়েছিলেন চেকের মাধ্যমে। সেটি ক্যাশ করার জন্য সোহাগের দরকার ছিল একটি ব্যাংক হিসাব। সে জন্যই গত বছরের জুনে জনতা ব্যাংকের পটুয়াখালীর প্রধান শাখায় এক হাজার টাকা জমা দিয়ে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে ছিলেন।

ব্যাংক হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার কথা শুনে সোহাগ ফকির অবাক। তিনি বলেন, ‘পুবালী ইনস্যুরেন্সে পাইলাম তিন হাজার পাঁচশ টাহা। হেইডা তো উডাইয়াও ফালাইছি। তাইলে এত টাহা কোম্মে গোনে আইলে!’

‘অ্যাকাউন্ট খোলার পর কী হইছে, না হইছে, কিছু জানি না। মাইনসে এখন বলাবলি করে, আমার অনেক টাহা।’

কিন্তু ওই ঘটনার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপক তাঁর কাছ থেকে চেকবই এবং ডিপোজিট বই জমা নিয়ে নেন বলে জানিয়েছেন সোহাগ।

ব্যাংক হিসাব বন্ধ না করলেও, ব্যাংকে তাঁর কোনো লেনদেন নেই বলে এতে তাঁর তেমন ক্ষতি হচ্ছে না বলে জানান সোহাগ।