Print

ধর্ষণের পর শিশুকে নিয়ে টানাহেঁচড়া ...

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ১৭.০৪.২০১৬

ভোলায় সাত বছর বয়সী ধর্ষিতা এক শিশুকে নিয়ে পুলিশ টানাহেঁচড়া করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, জড়িত ছেলেটি এক জনপ্রতিনিধির আত্মীয় হওয়ায় প্রভাবশালীরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী সংগঠনের নেত্রীরা।

অভিযুক্ত আরিফ (১৭) সদর উপজেলার ছোট আলগী গ্রামের ছিডুর ছেলে। সে স্থানীয় অ্যাডভোকেট ইউনুছ মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার মায়ের বোন আছিয়া বেগম ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য।

মেয়ের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ওই মেয়েকে পাশের সুপারি বাগানে নিয়ে যায় ছেলেটি। সেখানে নির্যাতন করে। পরিবার মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। দুপুরে হাসাপাতালের দোতলায় নির্ধারিত মহিলা সার্জারি বিভাগের ৮৪ নম্বর বিছানায় গিয়ে মেয়েটিকে পাওয়া যায়নি। ওই বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে মেয়েটির ভাই। মেয়ের ভাই জানায়, ভোলা সদর মডেল থানার এসআই আবু সাঈদ তার বোনকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে গেছেন। তার মা সঙ্গে গেছেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পর সে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটিকে শুক্রবার রাতে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ডা. রাবেয়া ও ডা. তাসলিমা নির্যাতনের আলামত পেয়েছেন।’

ভোলা থানার এসআই আবু সাঈদ বলেন, ‘গতকাল দুপুরে হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে ভোলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আনা হয়েছে। সেখানে ২২ ধারায় শিশুটির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।’ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ভোলার আঙ্গীনা মহিলা সমিতির সভাপতি বিলকিছ জাহান মুনমুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ ২৪ ঘণ্টায়ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার বাবাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন ছেলের মা আয়শা বেগম।