Print

ধর্ষণ মামলার বাদী সাজানোয় ওসি–এএসআই আসামি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৩.০৪.২০১৬

জোর করে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার বাদী বানাতে গিয়ে ভোলার তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আসামি হয়েছেন।

ওই কিশোরী এখন দুটি মামলার বাদী। এক মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা ও আরেক মামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা আসামি হয়েছেন।তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচড়া ইউনিয়নের চরজহিরউদ্দিনের ওই কিশোরী (১৭) গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে করে বলে, চরজহিরউদ্দিন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই জাকির হোসেন ১৭ এপ্রিল সকাল আটটায় তার বাড়িতে গিয়ে জোরজবরদস্তি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর আনেন। পরে দেখা যায়, ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন (ধর্ষণ) আইনে একটি মামলা সাজানো হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, মলংচড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ওরফে মান্নান বাগানী, তাঁর শ্যালক মাকসুদুর রহমান, ভাতিজা ইব্রাহীম ও আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কাশেম বিভিন্ন সময়ে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী অবৈধ গর্ভপাত করে।কিশোরী লিখিত বক্তব্যে বলে, ‘আমি কখনো ধর্ষণের শিকার বা গর্ভবতী হইনি এবং কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দিইনি। পুলিশের এএসআই জাকির হোসেন নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কারও পক্ষ হয়ে তাকে বাদী বানিয়ে তজুমদ্দিন থানায় ওই মামলা করেছেন।’ কিশোরী আরও বলে, ‘পুলিশ আমাকে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে চাইছে, আমি তাও করতে রাজি না। এতে আমার সম্মানহানি হবে।’ওই কিশোরী ভোলার পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বরাবর লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করে। পরে এসপির নির্দেশে কিশোরীকে বাদী করে বৃহস্পতিবার তজুমদ্দিন থানার আওতাধীন চরজহিরউদ্দিন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই জাকির হোসেন এবং থানার ওসি মাসুম তালুকদারকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করান।পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিশোরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারাই দোষী হবে, তারা শাস্তির আওতায় আসবে।’এএসআই জাকির হোসেন বলেন, ওই কিশোরীকে দিয়ে তিনি জোর করে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করাননি। সে স্বেচ্ছায় অভিযোগ দিয়েছে। এখন ভয়ে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষা করালে সত্য বেরিয়ে আসবে। সে পরীক্ষাও করাতে চাইছে না।তবে নিজেকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করে মলংচড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, তাঁদের বিপক্ষ দল (জাহাঙ্গীর হোসেন, ফরিদ মাঝি ও হেলাল উদ্দিন) তজুমদ্দিন থানার ওসি ও এএসআইকে টাকা খাইয়ে কিশোরীকে দিয়ে জোর করে মামলা করিয়েছে।তবে উল্লিখিত নামের লোকজন আবদুল মান্নানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।