Saturday 29th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে দাউদ! * নেত্রকোনায় অটোরিকশাচাপায় শিশুর মৃত্যু * আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল * হবিগঞ্জে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২ * বিসিবি পাচ্ছে ১৩২ মিলিয়ন ডলার! * সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত * আইপিএলে গম্ভীরের চার হাজার রান

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

ভোলার টকদধি রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৪.০৪.২০১৬ 

ভোলা মেঘনা ও তেতুলিয়া মধ্যবর্তি চরাঞ্চলের হাজারো মহিষের দুধের তৈরি টকদধি ভোলাসহ দেশে বেশ জনপ্রিয়।

দুধের উৎপাদন কম হলেও এর চাহিদা থাকে অনেক বেশি। তাই বেশ লাভবান দধি বিক্রেতা আর গোয়ালরাও। যে কারনে দেশের বাহিরেও রপ্তানি হচ্ছে মহিষের দুধের তৈরি টকদধি। তবে লবন পানি,ঘাষের সল্পতা,স্বাস্থ্যসেবা আর চোরের উপদ্রপই হচ্ছে এখন প্রধান সমস্যা।
মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মাঝখানে সুন্দর্যের রানী হিসেবে আখ্যায়িত এশিয়ার সবচেয়ে বৃহত দ্বীপজেলা ভোলা। আর এসব নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অন্তত অর্ধশতাধিক মহিষের খামার। যেসব খামারে এক একজন মালিকের রয়েছে শত শত মহিষের পাল। আর তেমনি একটি চর হচ্ছে মু-ভূখন্ড থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন মনপুরার কোল ঘেশা পাতার চর। আর সইে চরে রয়েছে একাধিক ব্যাক্তির খামার। যে খামারে রয়েছে শত শত মহিষের পাল।

তবে মজার বিষয় হচ্ছে এইসব খামারের প্রতিটি মহিষের রয়েছে আলাদা আলাদা করে নাম। ঐ নাম ধরে ডাক দিতেই সারা দেয় মহিষটি। এযেন বাতানদের সাথে মহিষের এক বিশেষ সম্পর্ক। সকালে খামারের বাতানেরা ঐ মহিষ গুলো যখন ছেড়ে দেয় তখন বাতানদের রাখা মহিষের নাম কালাপাখি, কালীকুমার, মধূচাঁন, মধুমালা,লালমনি,বোয়ার্নি ও বর্ষিসহ আরো বাহারি ধরনের রাখা নাম ধরে ডাক দিতেই সারা দেয় আর ঐ মহিষের বাচ্চাটি ছুটে যায় তার মায়ের কাছে। এটি যেন বাতানদের সাথে ঐ মহিষ গুলোর অসাধারন এক সম্পর্কের প্রতিফলন। তবে তার আগে বাতানেরা মহিষের দুধ সংগ্রহ করে নেয়। এজন্য তারা বাঁশের তৈরি বিষেশ এক ধরনের পাত্র ব্যবহার করে থাকেন।

এক একজন বাতান ২থেকে ৩শত করে মহিষ রাখেন। সব কিছুর পরেও লবন পানি,ঘাষের সল্পতার পাশাপাশি এসব মহিষের স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় বাচ্চা নস্ট হয়ে যাওয়া আর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মহিষ চুরি করে নেয়ার ঘটনা প্রধান সমস্যা বলে দাবী বাতান ও মহিষ মালিকদের। এটি খাটি দুধের তৈরি আর বিষুদ্ধ বলে জনপ্রিয় বলে জানালেন মহিষ মালিক মোঃ সান্টু চৌধুরী। তিনি আরো বলেন,রাতের অন্ধকারে ডাকাতরা অস্ত্র ঠেকিয়ে গরু,মহিষ ও ভড়ো চুড়ি করে নিয়ে যায়। পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না।আর খামার মালিক আমিরুল ইসলাম বাচ্চু বলেন,লবনাক্ত পানিও ঘাষ কমের কারনে দুধ কম হচ্ছে। অনেক সময় বাচ্চা নস্ট হয়ে যায়। সময় মত ডাক্তার পাওয়া যায় না। তারা আসেন না।তাদেরকে গিয়ে আনতে হয়। ঐষধপত্র পাওয়া খুবই কঠিন। তবে মহিষের দুধের সুনাম ভোলানয় দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই দধির কদর অনেক বেশি। দুধ বিক্রি করে অনেক লাভবান হচ্ছি আমরা। তবে তিনি সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

অপরদিকে ঐ মহিষের দুধ প্রতিদিন এসব চর থেকে ট্রলারে করে গোয়ালেরা ৫০থেকে ৬০টাকা কেজি অথবা ২হাজার টাকা মন দরে ক্রয় করে ৩থেকে ৪হাজার টাকা দুধের মণ বিক্রি করেন। যে কারনে দুধ কম হলেও দাম বেশি হোয়ায় লাভবান হচ্ছেন গোয়ালরা। তবে এসব চর থেকে ঘোয়ালরা ভোলা শহরের ঘোষপট্রি নামক স্থানে প্রতিদিন দুধ নিয়ে আসেন বিক্রি করতে। তখন প্রায় দোকানের সামনেই ব্যস্ত সময় পার করেন ক্রেতা আর বিক্রেতারা। দোকানীরা সেই দুধ ক্রয় করে দধি তৈরি করেন। ভোলার ঘোষট্রির এক দোকানী মোঃ শেখ ফরিদ বলেন,ভোলার মহিষের দুধের টকদধি বেশ জনপ্রিয়।
সারা বছরই মহিষের দুধ পাওয়া গেলেও শীতে এই দুধের তৈরি টকদধির চাহিদা বহু গুন বৃদ্ধি পায়। দুধ কম আর দাম বেশি হলেও চাহিদায় কমতি থাকে না। কারন এই সময় বিয়েসহ অনুষ্ঠানাদি বেশি থাকে। যে কারনে দধি বিক্রেতারা সব সময় ব্যস্ত থাকেন দধি তৈরির কাজে। আর বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। তবে এখন শুধু ভোলা,ঢাকা নয় রপ্তানী হচ্ছে দেশের বাহিরেও বলে দাবী করেন তিনি।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান মনির বলেন,ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে অনেক গুলো গরু এবং মহিষের বাতান রয়েছে ।এবং সেখান থেকে চুরির অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। ইতি মধ্যেই চোরসহ বেশ কয়েকটি গরু ও মহিষ লক্ষিপুর থেকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এব্যাপারে আমার পুলিশ বিভাগ সচেতন রয়েছে।

অপরদিকে মহিষের রোগবালাই,চিকিৎসাসেবা প্রদান আর মহিষের বাচ্চা নস্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কে জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: প্রদীপ কুমার কর্মকার চরাঞ্চলের এসব গবাদীপশুর সেবা ও ঔষধ ঠিক ভাবে দিতে না পারার সীমাবদ্ধতার কথা স্বিকার করে লোকবল সংকটের কথা বলেন। তবে এসব মহিষের দুধের তৈরি টকদধি উৎপাদন করে দেশ ও বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি,কর্মসংস্থান সৃস্টি এবং দারিদ্র বিমোচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে পুস্টির অভাব দুর করে বলে জানালেন।