Print

নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরে জেলেদের মাছ ধরা শুরু

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৩.০৫.২০১৬

জাটকা ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও নদীতে মাছ ধরা শুরু করেছেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞা আদেশ শেষে সকাল থেকে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে নদী চষে বেড়াচ্ছেন ৪০ হাজারেরও বেশি জেলে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় আশানুরূপ মাছ না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মা ইলিশ রক্ষায় প্রতি বছর অক্টোবরে ১১ দিন এবং জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। সে হিসেবে গত দুই মাস নদী মাছ ধরতে যাননি জেলেরা। যারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় গত দুই মাসে ৫৩০ জনকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। যাদের অধিকাংশই জেলে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতিনিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। আর এ কারণে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার ৪১ হাজার ৪২ জন জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন।
সদর উপজেলার দোকানঘর এলাকার মেঘনার নদী পাড় ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা ডাঙায় তুলে রাখ নৌকা ধোয়া-মোছা বা কেউ আলকাতরা মাখনোর কাজে ব্যস্ত।
দোকানঘর এলাকার জেলে আব্দুল জলিল বলেন, এ বছর সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা গত দু’মাস মাছ ধরতে যাননি। ওই দু’মাসে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ৪০ কেজি চাল দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল।
আর তাই নিষেধাজ্ঞার দু’মাস চালের পরিবর্তে নগদ সহায়তার বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানালেন করিম বেপারী। তিনিও বলেন, সরকারের সহায়তার চান তাদের কাছে ঠিক মতো পৌঁছাই না। এমনকি তাদের নিম্নমানের চাল এবং ওজনে কম দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতিজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান বলেন, গত দু’মাসে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের পাঁচ শতাধিক অভিযানে ২৯০ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল, ২৪০ জন জেলে ও বিক্রেতার কাছ থেকে সাত লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৪৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ২৪ মেট্রিক টন জাটকা জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে স্রোত কম। এ জন্য ইলিশ কম ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে এবং পানি ঘোলা হলে গতবারের চেয়েও এবার ইলিশ বেশি ধরা পরবে।