Print

১ মণ ধানে ১ কেজি মাংস!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০৫.২০১৬

বরিশালে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা।

এক মণ ধান বিক্রি করে টেনেটুনে এক কেজি গরুর মাংস কেনার সমান টাকা পাচ্ছেন তারা। খাসির মাংস কিনতে চাইলে আরও বেশি ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

বরিশালের একাধিক চাষি জানান, মণপ্রতি ধানের আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪শ’ টাকা। বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকায়। আর এক কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়। কৃষকেরা এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা পেলেও খাসির মাংস কিনতে পারছেন না তারা।

এ অঞ্চলে ধান চাষে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লেও বাজারে তেমন মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে ক্রমেই ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বোরো চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন,বরিশালে এবার বোরো মৌসুমে ৫১ হাজার ৬২৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ১৭ হাজার ১৩৫ হেক্টর,উফশী জাতের ধান ২৯ হাজার ৯৭৯ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৪ হাজার ৫১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ফলন ধরা হয়েছে হাইব্রিড ৪.৯৫ মেট্রিকটন, উফশী ৩.৮৫ মেট্রিকটন এবং স্থানীয় ১.৭৫ মেট্রিকটন।চাষিরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের রোগবালাই না থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে ধানের দরপতনে হতাশ হয়েছেন তারা।এদিকে মাংস বিক্রেতারা জানান, গরুর খাদ্য সংকট, খাদ্যে মূল্যবৃদ্ধি ও গবাদি পশু আমদানি না হওয়ায় গবাদি পশুর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।