আজ রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় * সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ১০ অক্টোবর * বন্যায় টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়কে ধস; উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ বন্ধ * রাজারবাগে এক নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণের অভিযোগে তার এক সহকর্মী গ্রেপ্তার * কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

রমনা পার্কের আদলে তৈরী হচ্ছে আরেক "রমনা পার্ক"

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০১.২০১৭

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ঢাকার রমনা পার্কের আদলে একটি মনোরম উদ্যান (পার্ক) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার জাম্বুরি মাঠে ১৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট একর আয়তনের পার্কটি নির্মাণ করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ‘চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত জাম্বুরি মাঠে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিশিষ্ট উদ্যান স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণকাজ চলছে পুরোদমে। ২০১৮ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই পার্ক নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সাড়ে আট একর জমির ওপর অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি হবে দেশের অন্যতম নান্দনিক একটি পার্ক। রমনা পার্কের আদলে এ পার্কে হাঁটার জন্য প্রচুর খোলা জায়গা রাখা হচ্ছে। থাকবে হরেক রকম ফুল ও ফলের গাছও। এই পার্কে এসে চট্টগ্রামের মানুষ কেবল মনোরম প্রকৃতি নয়, মানসিক প্রশান্তিও খুঁজে পাবে। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আবদুল্লাহ নূর জানালেন, দর্শনার্থীদের কাছে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার ভাবনা নিয়েই পার্কের নির্মাণ কাজ চলছে। নগরীর সবচেয়ে বড় এই পার্কের নির্মাণকাজ সুপরিকল্পিত এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বন্দর নগরীর বাসিন্দাদের বিনোদনের চাহিদা মেটাতে পূর্তমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই পার্ক নির্মাণের কাজ তদারক করছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ীই পার্ক সাজানো হচ্ছে। রোপণ করা হচ্ছে দেশি-বিদেশি ফুল-ফল ঔষধি গাছ। সার্বক্ষণিকভাবে তিনি পার্কের নির্মাণকাজ তদারকিও করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা অনুযায়ী নির্মাণাধীন সুবিশাল এই পার্কের প্রায় এক দশমিক ১৫ একর জায়গাজুড়ে থাকছে মনোরম লেক। লেকের ওপর আকর্ষণীয় গ্গ্নাস ব্রিজ ও ১৩৮টি সিটিং বেঞ্চ ছাড়াও থাকবে ঝর্ণা-ফোয়ারা এবং ড্যান্সিং লাইটের আয়োজন। থাকছে ক্যাফেটেরিয়া, গণশৌচাগার, গভীর নলকূপ ও একটি সাব-স্টেশন। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা অনুযায়ী মাঠের চারপাশে হাঁটার জন্যও থাকবে প্রশস্ত ওয়াকওয়ে। সীমানপ্রাচীরেও থাকছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। পার্কে প্রবেশের জন্য গেট থাকবে ছয়টি। চারপাশে থাকবে গাছের সমাহার। জাম্বুরি মাঠ এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পার্কটি তাই দুই ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা এড়াতে রাখা হয়েছে ড্রেন। পার্ক চালুর পর এই এলাকা নতুন রূপ পাবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলেও আশা করছেন সবাই।প্রসঙ্গত, এই পার্কের প্রধান স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম নাসির। সহকারী প্রধান স্থপতি ফাহমিদা সুলতানা, উপ-প্রধান স্থপতি জসিম হোসেন, আলপনা চাকমা, প্রকল্প স্থপতি মামুন পাইক ও তৃতীয় মান নকশাকার মো. কামরুজ্জামান।

সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণকাজে ব্যস্ত সময় কাটছে শতাধিক শ্রমিকের। শুরুতেই নির্মাণ করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া, বাউন্ডারি ওয়াল, ফুটপাত, ড্রেন টয়লেট, মেইনটেনেন্স অফিস। শতাধিক শ্রমিক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব কাজে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজের এমডি এরশাদুল হক বাবর জানান, দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামবাসীর জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত একটি বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দুই শিফটে শতাধিক শ্রমিক অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। ২০১৮ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে আরও আগেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।গেল ২৪ ডিসেম্বর পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ পার্কের নির্মাণযজ্ঞ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন তিনি।