Sunday 22nd of January 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

****তরুণীর মামলায় গ্রেফতার ক্রিকেটার আরাফাত সানি * শান্তি কামনায় শেষ হলো ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বালি উত্তোলন

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০১.২০১৭

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠছে অহরহ বসতি।

পেকুয়া, কুতুবদিয়া আর বাঁশখালীর লোকজন এ নিত্যনতুন বসতি গড়ে তুললেও বনবিভাগের এ ব্যাপারে কোর ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঝে মধ্যে বনবিভাগ অভিযানে গেলেও জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সাথে আতাঁত করে চলে আসে। যার কারণে পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন এখন নিয়মিত।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পেকুয়া উপজেলা টইটং, বারবাকিয়া ও শীলখালীর পাহাড়গুলোতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে বসতি স্থাপন করছে। সরকার প্রদত্ত ২০০৬ সালের বাফার সামাজিক বনায়ন এর রোপিত গাছ উজাড় হওয়ার পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় ছোট ছোট বসতি স্থাপন করে পুরো পাহাড় দখল করে রেখেছে। এছাড়াও এ সংরক্ষিত বনবিভাগের ভিতর রয়েছে ৪-৫ টি বালির মহাল। যাদের কোন ধরনের বালি উত্তোলনের অনুমতি নাই। এমনকি বালি পরিবহনের জন্য পাহাড় সাবাড় করে প্রভাবশালীরা রাস্তাও তৈরি করেছে। অথচ বারবাকিয়ার পাহাড়িয়াখালীতেই রয়েছে বন বিভাগের কার্যালয়।পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বালি উত্তোলনপাহাড় পরিদর্শনকালে দেখা হয় বারবাকিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা তওহীদুল ইসলামের সাথে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অহরহ বসতি কিভাবে স্থাপন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বনবিভাগের জনবল সংকট রয়েছে। যার কারণে প্রভাবশালীরা বসতি স্থাপন করলেও আমাদের করার কিছুই থাকেনা। এমনকি মাঝে মধ্যে তাদের কার্যালয়ে এসেও প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে যায়।

টইটংয়ে বসতি স্থাপনে তার সংশ্লিষ্টতা আছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের মন্তব্যে তিনি জানান, এ সব মিথ্যা অভিযোগ। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত কথা বলে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করবেন বলে জানান।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ বনবিভাগের এসিএফ এর সাথে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী একটি চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি সংরক্ষিত বনবিভাগ পরিদর্শনে আসলেও অবৈধ বসতি উচ্ছেদের জন্য কোন ধরণের প্রদক্ষেপ নেননা। বরং তাদের সাথে দেনদরবার করে চলে যান। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি বসতি থেকে ৫০হাজার টাকার উর্ধ্বে আদায় করেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক অভিযোগও করেছেন। কিন্তু তার ক্ষমতার কাছে সব অভিযোগ যেন ধুলোয় মিশে যায়।টইটং সোনাইছড়ির পাহাড়ে এক বসতি স্থাপনকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কয়েক বছর আগে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। বর্তমানে তিনি পাকা দালানের কাজ শুরু করেছেন। বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি পাকা দালান করছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা তওহীদুল ইসলাম জানান, তিনি পাকা দালান করার কোন ধরণের অনুমতি দেননি। তার অবর্তমানে দালানটির কাজ করছেন।পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ পেকুয়া শাখার সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫বছরের ভিতর পেকুয়ায় কোন পাহাড় থাকবেনা। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে আরো বলেন, বসতি উচ্ছেদ ও স্থাপন বন্ধ না করলে তারা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করবেন।চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো.রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নতুন করে কোন বসতি স্থাপন হয়নি। নতুন কোন বসতি স্থাপিত হলে উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি আরো বলেন, এসব কাজে আমার কোন কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।