Saturday 25th of March 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***আইপিএলকে বাতিল করে দিল বিসিসিআই!***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

রাখা হয়েছিল হাত-চোখ বেঁধে, স্তব্ধ সোহাগ!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ১৩.০৪.২০১৬

মিজানুর রহমান সোহাগকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল একটি ঘরে। বেঁধে রাখা হয়েছিল তার হাত ও চোখ।

তার সঙ্গে ছিল আরো কয়েকজন। তবে কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।

মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেছেন কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোগাহী জাহান তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনের বন্ধু মিজানুর রহমান সোহাগ।

কুমিল্লায় সেনানিবাস এলাকায় আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বাড়িতে ফিরে আসার পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা তার সঙ্গে দেখা করেন। বর্তমানে সোহাগ খানিকটা অসুস্থ। তার কথাবার্তাও অনেকটা এলোমেলো।

কে বা কারা এবং কোথায় তাকে বন্দী রেখেছিল সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না সোহাগ। তবে তিনি জানান, এতোদিন ধরে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। শুধুমাত্র খাওয়ার সময় তার হাতের বাঁধন খুলে দেয়া হতো।

সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণসার নামক এলাকায় সোহাগকে পাওয়া যায়। তাকে বিধ্বস্ত দেখায়। শরীর খুব দুর্বল, কথাও বলতে চাচ্ছিল না। তার নিখোঁজ বিষয়ে জানতে চাইলে সে চুপ করে থাকে। বাড়িতে সে বিশ্রম নিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন বুড়িচং উপজেলার নারায়নসার গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী পরিচয়ে ৮ জনের একটি দল সোহাগকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন তার পরিবার। তিনদিন পর ৩০ মার্চ বুড়িচং থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবার।

পরে সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম ও মা শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলেকে নিয়ে যাবার সময় তারা পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে ফিরিয়ে দিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু ছেলেকে ফিরে না পেয়ে ৩০ মার্চ বুড়িচং থানায় জিডি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে আন্দোলন শুরু হয়।