Print

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ০৫.০৮.২০১৫

সিলেটের বিশ্বনাথে দুই মাস আগে রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া আবদুল মনাফ (৫০) নামের এক দিনমজুরের লাশ কবর থেকে গায়েব হয়ে গেছে।

আবদুল মনাফ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনে গেলে কবরে লাশের বদলে পলিথিন পান উত্তোলনকারী শ্রমিকরা। কবরে লাশ না পাওয়ায় দিনভর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে হরিপুর গ্রামবাসীসহ এলাকার লোকজন কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমুদ, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, থানা পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র সরকার। এর আগে গত ২৫ মে পুনরায় লাশের ময়নাতদন্তের জন্যে হলফনামা সহকারে আদালতে আবেদন করেন নিহত আবদুল মনাফের ভাই আবদুল হাসিম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিম মনাফের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য গত ১৭ জুন আদেশ প্রদান করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-২-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্দেশে পুনরায় লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কবর খুঁড়লে লাশের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ মে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ আবদুল মনাফ। নিখোঁজের ২ দিন পর ১৮ মে সন্ধ্যায় স্ত্রী চম্পা বেগম নিজ গোয়ালঘরের পাশে পরিত্যক্ত একটি ঘরে স্বামী আবদুল মনাফের লাশের সন্ধান পান। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ১৯ মে হত্যার অভিযোগে গ্রামবাসী একই গ্রামের উস্তার আলী ও তার ছেলে মিন্টু মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওইদিন নিহতের ভাই আবদুল হাসিম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। নিহতের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে আবদুল মনাফ আত্মহত্যা করেছেন মর্মে থানা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর গত ২৫ মে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩-এ হত্যার অভিযোগ এনে ভাই আবদুল হাসিম বাদী হয়ে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন, এতে গ্রামের উস্তার আলী (৫৫) তার ছেলে টিটু মিয়া (২৫), মিন্টু মিয়া (২২), লুৎফুর (৩২) ও একই গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে কবিরুলকে (৩৫) আসামি করা হয়। এ ছাড়া আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়।