Print

নতুন ট্রেন ও বগি চান যাত্রীরা

বিডিনিউজডেস্ক  ডেস্ক | তারিখঃ ১৭.০৪.২০১৬

চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ ও উত্তরে কম খরচে কম সময়ে যোগাযোগের জন্য রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দোহাজারী ও নাজিরহাট রেললাইনে চলাচল করে মাত্র দুটি ট্রেন।

আর বগিগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। গত ১০ বছরে যুক্ত হয়নি নতুন বগি। শহরে যানবাহন ও মানুষের চাপ কমাতে ওই দুটি রুটে শিগগিরই নতুন বগি বরাদ্দ দিয়ে নতুন সার্ভিস চালুর দাবি ওঠেছে। এদিকে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইনের সংস্কারকাজও প্রায় শেষের পথে। সুতরাং নতুন সার্ভিস চালু করতে সমস্যাও নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের জন্য ১০০টি নতুন মিটার গেজ বগি আমদানি করছে সরকার। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০টি বগি রেলওয়ের পাহাড়তলী কারখানায় পৌঁছেছে। আগস্টের মধ্যে বাকি বগি এসে যাওয়ার কথা। এসব বগি থেকে দোহাজারী ও নাজিরহাট রেললাইনে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ওই দুটি রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করার জন্য আমরা আগে থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। এখন নতুন বগি আসায় দাবি বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা রইল না। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’ একই সঙ্গে কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বাদল বলেন, ‘দ্রুত নতুন সেতু নির্মিত না হলে দ্রুতগতির রেল চালু করা সম্ভব হবে না।’ পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগযোগ নিশ্চিত করতে নতুন রেল সার্ভিস চালুর কোনো বিকল্প নেই।’ নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হবে কিনা জানতে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মকবুল আহমদের সাথে কথা বলতে গতকাল সোমবার তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, নতুন বগির ৫৪টি যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধুলি ও তুর্ণা নিশিথাতে। এছাড়া চট্টগ্রাম-সিলেট, ঢাকা-সিলেট রুটে চলা ট্রেনে নতুন বগি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এসব সার্ভিসে বর্তমানে ব্যবহূত বগি অন্য আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনে সংযুক্ত হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ওপর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতিদিন দুটি ট্রেন চলাচল করছে। ১৬ কিলোমিটার গতিতে চলে ওই অল্প পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। অথচ চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে একই গন্তব্যে যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। চলমান ২০৩ কোটি টাকার সংস্কারকাজ শেষ হলে ট্রেনের গতি পাবে ৫০ কিলোমিটার। আর পৌঁছতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। এর ফলে বাসের সমান সময়ে এবং কম খরচে সেখানে যাতায়াত সম্ভব হবে। আর চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাটে ৩৮ কিলোমিটার দূরত্বে ১৬ কিলোমিটার গতিতে চলে পৌঁছতে ট্রেনের সময় লাগে দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট। কিন্তু সড়কপথে লাগে দেড় ঘণ্টা। লাইন মেরামত কাজ শেষ হলে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলে পৌঁছতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। ফলে সড়কপথের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠবে রেলপথ। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির উদ্যোগে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রুটে দুটি ডেমু ট্রেন সার্ভিস চালু হয়। ডেমু ট্রেন বর্তমানে দুই ঘণ্টায় নাজিরহাট যাতায়াত করে। এই দুই রুটে সংস্কারকাজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পুরো কাজ শেষ করতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত লাগতে পারে।’ কিন্তু রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ওই প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৬। এ বিষয়ে শহীদুল বলেন, ‘অনুমোদিত মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৭।’ আর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রেলের গতি কত হবে তাও তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রামে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সড়কপথ। তবে রেলপথে কম সময়ে কম খরচে সেখানে পৌঁছা সম্ভব। ফলে ট্রাফিক জ্যাম ছাড়াই মাত্র দুই ঘণ্টায় একজন লোক দোহাজারী থেকে শহরে অফিস করে আবার ফিরে যেতে পারবেন। এছাড়া দোহাজারীতে ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি তেল পরিবহনেও রেললাইন বেশ সুফল দেবে। শহরে সবজির বড় অংশ সরবরাহ হয় দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে। ফলে কৃষক একেবারে নামমাত্র খরচে সবজি শহরে পৌঁছাতে পারবেন। একই সঙ্গে নাজিরহাট রুট দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে কম খরচে ও কম সময়ে। এছাড়া সেখানকার উত্পাদিত সবজিও খুব দ্রুত শহরে আনা সম্ভব হবে। এতে সড়কপথে যানবাহনের চাপও কমবে।