মুদ্রণ

শত্রুতার কারণে পৃথিবীতে বিখ্যাত যে ভাইয়েরা!

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ০৬.০৯.২০১৫

পৃথিবীর রক্তের বন্ধনগুলোর ভেতরে ভাই-ভাই কিংবা ভাই-বোনের বন্ধনকে অন্যতম দৃঢ় বলে মনে করা হয়।

বাবা কিংবা মা কাছের মানুষ হলেও তাদের সাথে সব কথা মন খুলে বলা যায়না, তাদেরকে সবকিছু জানানো যায়না, যতটা না যায় ভাই বা বোনের কাছে। একে অন্যের জন্যে জীবন বাজি রেখেছে এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই পৃথিবীর ভাই-ভাই কিংবা ভাই-বোনেদের ভেতরে। কিন্তু এর ঠিক উল্টোটাও কিন্তু আছে। একে অন্যের জীবন নিয়ে ফেলতে পারে, তুচ্ছ কারণে চিরশত্রু হয়ে উঠতে পারে এমন ভাই কিংবা বোনও রয়েছে পৃথিবীতে। আর আজকের ফিচারে রইলো তেমনই কিছু ভাইদের কথা যাদের শত্রুতা পৃথিবীখ্যাত!‍

১. হুডিনি ভাইয়েরা

হ্যারি আর থিওডোর হুডিনির জাদুর যাত্রা শুরু হয় যখন এই ভাইয়েরা কনি দ্বীপে দ্যা ব্রাদার্স হুডিনি নামের জাদুর কৌশল দেখানোর প্রতিষ্ঠান খোলে। কিন্তু পরবর্তীতে হ্যারি একাই বেশি পরিচিত হয়ে গেলে নিজের নাম পাল্টে ফেলে থিওডোর। হয়ে যায় হারডিন। এরপরই শুরু হয় তাদের পেমাগত শত্রুতা। এমনিতে একে অন্যের কাছে খুবই বন্ধসুলভ থাকলেও পেশাগত দিক দিয়ে একে অন্যকে টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লেগে যান দুই ভাই। তাদের এই শ্রুতা কিংবা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কথা পৃথিবীখ্যাত হয়ে ওঠে তখন। এরপর অবশ্য হ্যারি মারা যাওয়ার আগে হারডিনকে নিজের সবকিছু দিয়ে যান। আর হারডিনও ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরুপ নিজের এক ছেলের নাম রাখে হ্যারি।

২. ডেভিস আইয়েরা

ইউ রিয়েলি গট মি গানটির মাধ্যমে গিটারের অন্যরকম ব্যবহার করে গানের ধারায় একটা পরিবর্তন আনেন রে এবং ডেভ ডেভিস ভাইয়েরা। হেভি মেটাল ও পাঙ্ক রককে পথ দেখানো এই গানটি ১৯৬৩ সালে প্রচন্ড রকম জনপ্রিয় হয় এবং দ্যা কিংকস নামে ডেভিস ভাইদের ব্যান্ডটিও সবার চোখে পড়ে যায়। কিন্তু এরপরেই শুরু হয দ্বন্দ্ব। কে গানটির মূল সুরকার সেটা নিয়ে রেষারেষি শুরু হয় ভাইয়ে ভাইয়ে। ভেঙে যায় ব্যান্ড! নিজেদের মতন করে নতুন নতুন সুর তৈরি করার চেষ্টা করেন দুই ভাই। ১৯৯৫ সালে শত্রুতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তারা নিজেদের আত্মজীবনী প্রকাশ করার মাধ্যমে। লেখা চুরি করা নিয়েও একে অন্যকে দোষারোপ করেন এই দুই ভাই সেসময়! তাদের এই শত্রুতা গানের দুনিয়ায় বেশ বিখ্যাত।

৩. গালাঘের ভাইয়েরা

বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ১৯৭০ থেকে এখন অব্দি দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে কাজ করে চলেছে লিও গালাঘের। আর তার সেই নামকে ব্যবহার করেই ভাইয়ের সাথে কাজ করার অনুমতি চায় ভাই রন। লিও কিছু শর্তসাপেক্ষে রনকে অনুমতি দেয় কাজ করার। কিন্তু পরবর্তীতে সেসব শর্ত ভেঙে ফেলে রন। গালাঘের টু নামে নিজের আলাদা প্রতিষ্ঠান খোলে এবং পরবর্তীতে আরো অনেক কাজ করে যেগুলো লিওকে ক্ষেপিয়ে তোলে। লিও বের করে দেয় রনকে তার প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়া থেকে। কোর্ট অব্দি গড়ায় তাদের শত্রুতার জের। মামলায় জিতে যায় লিও। কিন্তু বাবা-মা চলে যায় রনের পক্ষেই!

৪. টেরিল ভাইয়েরা

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাবার সাথে সন্তান কিংবা ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের সংঘর্ষ বেঁধেছে এমনটা নতুন নয় আর ঠিক তেমনটিই হয়েছিল ভর্জিনিয়াবাসী উইলিয়াম আর জেমস টেরিল ভাইদের ভেতরে। জেমস ছিল তার পরিবার ও কনফেডারেসির পক্ষে। অন্যদিকে পরিবারের সম্পূর্ণ বিপক্ষে গিয়ে ইউনিয়নের পক্ষে। দুজন দুজনের বিপক্ষে যুদ্দ করে তারা গৃহযুদ্ধের সময়। পরবর্তীতে অবশ্য যুদ্ধেই মারা যায় দুই ভাই।

৫. কার্টার ভাইয়েরা

সবক্ষেত্রেই যখন ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্ধ রয়েছে তখন রাজনীতিই বা বাদ যাবে কেন? আর তেমনটিই ঘটেছিল জিমি কার্টারের বেলায়। ছোটভাই বিলি জিমির চাইতে অনেকটা কম শাসনে বড় হয়েছির। আর তাই নেভি থেকে ফিরে এসে পারিবারিক ব্যবসার কাজে হাত দিলে বিলি বড় ভাই জিমির ওপর রেগে যায় এবং স্কুল ছেড়ে মেরিনে চলে যায় কাজ করতে। পরে অবশ্য সে ফিরে আসে আর রাষ্ট্রপতি ভাইকে পদে পদে অপদস্ত করে তোলে। বিয়ার খাওয়া, কর না দেওয়াসহ হাজারটা ঝামেলায় জড়ায় বিলি। ভাইয়ে ভাইয়ের এই শত্রুতার নিদর্শন হিসেবে বেশ উপরের দিকে চলে যায় এই ভাইয়েরা তখন।

তথ্যসূত্র- 10 Noteworthy Sibling Rivalries Through History