Print

স্কুল পড়ুয়া চাচাতো ভাইকে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১০.০৫.২০১৬

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তার চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেনকে।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মিনহাজকে মুরাদনগরের বাড়িতে দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম। তনুর চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের বাসায়। খুনি শনাক্ত না হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের শিশু-নারীসহ বিভিন্নজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে বিব্রত তনুর বাবা এয়ার হোসেন। কুমিল্লার মুরাদনগরের মীর্জাপুরে অবস্থিত তনুদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে এয়ার হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের তদন্ত কর্মকর্তা বারবার বিব্রতকর প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অথচ আমার মেয়ে যাদের বাড়িতে পড়াতে যেত, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। শনিবার কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা জালাল আহমেদকে বলে এসেছি, আমি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের সঙ্গে কথা বলতে চাই। এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি।’ সূত্র জানায়, তনু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৫৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে তনুর পরিবারের সব সদস্য রয়েছে। একাধিকবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে মুরাদনগরের মীর্জাপুরে যায়। সেখানে অবস্থানরত তনুর চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মিনহাজ আগে কুমিল্লা সেনানিবাসসংলগ্ন করিমাবাদ মডার্ন হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। তনু নিহত হওয়ার পর সে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে ফিরতে না চাইলে মুরাদনগরের বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন পরিবারের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা মিনহাজকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সেনানিবাসে গিয়ে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টায় মাকে ফোন করেছিল কি না তা জানতে চান তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার কাছেই লাশ পাওয়া যায় কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর। এ হত্যা মামলায় দীর্ঘদিনেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটেনি।