Print

মনোহরগঞ্জে যুবলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় মামলা

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে (৩০) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ভাই আলমগীর হোসেন বাদী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে, থানায় মামলা দায়েরের পর গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদা দাবির জের ধরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাতাবাড়িয়া ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের কাজি বাড়ির আহসান উল্লাহর ছেলে। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি বিপুল চন্দ্র ভট্ট কালের কণ্ঠকে বলেন, "শুক্রবার রাতে জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর দক্ষিণ বাতাবাড়িয়া গ্রামের সালেহ আহম্মদের ছেলে সুদান প্রবাসী মিশুকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ওই রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার ৭  নম্বর আসামি আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।" তিনি বলেন, "গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারকে আজ শনিবার কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।" অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই হত্যার পর থেকেই অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বাতাবাড়িয়া গ্রাম। অভিযুক্তরাসহ গ্রামের যুবক শ্রেণির লোকজন পালিয়ে গেছে গ্রাম থেকে। আজ শনিবার বাদ আসর ওই যুবলীগ নেতার বাড়ির সামনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপর তাকে পারিবারিক করবস্থান দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাতাবাড়িয়া গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির সালেহ আহম্মদের ছেলে সুদান প্রবাসী মিশু মিয়া ওই গ্রামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে ওই প্রবাসীর কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর। তবে ঘটনার শুরু থেকেই ওই যুবলীগ নেতার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান মিশু। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর তার লোকজন নিয়ে মিশুর কাছে গিয়ে ফের চাঁদার টাকা দাবি করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরের ছুরিকাঘাতে মিশু পক্ষের মানিক আহত হয়। গতকাল  শুক্রবার বিকেলে ওই ঘটনার জের ধরে মিশু তার লোকজন নিয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে। এ সময় জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে তারা।