Print

ফায়জা নাম নিয়ে নতুন ঠিকানায় সেই শিশুটি

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ ১১.১০.২০১৫

রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় কুকুরে কামড়ানো সেই শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ফায়জা। একই সঙ্গে তার নিবাসও মিলেছে।

ফায়জাকে রবিবার বেলা ১২টায় সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আজিমপুরে ছোট মনি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতলের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। নিবাসটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন। এ উপলক্ষে হাসপাতালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান বলেন, কুকুরে কামড়ানো শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ফায়জা। সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীদের পরিশ্রমে শিশুটি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। এ সময় যে দুজন হৃদয়বান নারী ফায়জাকে উদ্ধার করে হাসাপতালে নিয়ে যান তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। মিজানুর রহমান জানান, অনেকেই শিশুটিকে নেওয়ার জন্য মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করেছিলেন। আদালতের মাধ্যমে তারা আবেদন করে শিশুটিকে নিতে পারবেন। এ সময় তিনি জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী টেলিফোনে শিশুটির দায়িত্ব সরকার নিয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খাজা আবদুল গফুর, শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল হক কাজলসহ অন্য চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া মাঠের ভিতর থেকে কুকুরে কামড়ানো একটি শিশুকে উদ্ধার করেন তানিয়া আক্তার ও লিপি আক্তার। তখন তার নাকের এক অংশ, ঠোঁটের এক অংশ এবং বাঁ হাতের দুটি আঙুল কুকুরে খেয়ে শেষ করে দিয়েছিল। নবজাতকটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করেন তারা। তাৎক্ষণিকভাবে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেন ঢামেকের চিকিৎসকরা। সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসকসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের মাধ্যেমে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শিশুটির বয়স আজ ২৭ দিন। সে ভালোও আছে এবং খাবার খেতে পারছে। তবে পুরোপুরি অপারেশন করে সুস্থ করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে।