Print

যে রাস্তায় কাজ কখন শেষ হয় না

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৯.০৪.২০১৬

উন্নয়ন কাজের জন্য রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় সড়ক নির্দিষ্ট সময়ে খোঁড়াখুঁড়ি চলে।

কিন্তু রাজধানী ঝিগাতলা এলাকায় একটি রাস্তায়বছরের কোন সময় কাজ শেষ হয়না চলে সারাবছর। সরজমিনে দেখা যায় ঝিগাতলা নতুন কাঁচাবাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা ১ কিলোমিটারেরও কম কিন্তু এ রাস্তায় কাজ চলে সারা বছর। এক পাসের কাজ না শেষ হতে আরেক পাসে খুঁড়া-খুঁড়ি শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ খোঁড়াখুড়ি কাজ চলায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। অভিযোগ উঠেছে, সেবা সংস্থাগুলো যথাযথ নিয়ম না মেনে, ধীরগতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করায় জনদুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাছাড়া একই রাস্তায় একধিকবার টেন্ডার নেওয়ার জন্য এসব করছে ক্ষমতাসীনরা। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী এক মাসের বেশি সড়ক খুঁড়ে রাখার বিধান নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা সারা বছর এ এলাকার রাস্তাসহ অলিগলি খুঁড়ে ক্ষতবিক্ষত করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ সেলীম বলেন, আমাদের এখানে পানি, গ্যাস বিদ্যুৎ, ড্রেনের লাইনের কাজের জন্য কিছুদিন পরপর খোঁড়াখুড়ি করতে হয়। এ কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। আশাকরি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত। আদেশক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন’। রাজধানীর গুলশান-১ গোল চত্বর মোড়ে এ রকম সাইনবোর্ড দেয়া আছে। সাদা সাইনবোর্ডে লাল কালিতে লেখা এ নির্দেশনা। গোল চত্বরের যে অংশে রাস্তা কাটা হয়েছে সেখানে এখন পর্যন্ত মেরামত হয়নি। রাস্তার ওপর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে স্টিলের পাত। এমন অবস্থা প্রায় মাসাবধি চলছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ হচ্ছে। গুলশান-১ ও দুই নম্বর গোল চত্বর থেকে শুরু করে বনানী এলাকার বেশিরভাগ রাস্তার চিত্র প্রায় একই রকম। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে চলছে রাস্তা কাটাকাটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীজুড়েই চলছে রাস্তা কাটার উৎসব। ফলে উন্নয়ন ভোগান্তির মধ্য দিয়েই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করার কথা। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীটাই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। সেবা সংস্থাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করেনি। তাই সারাবছর রাস্তা কাটাকাটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে দিন দিন নাগরিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে। যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা  নিয়ে এসব কাজ করা হবে। শান্তিনগর-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভারের নিচের অবস্থাও একই। এতে একদিকে যেমন ফ্লাইওভারের নির্মাণ সামগ্রী অন্যদিকে নিচের সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ কেটে চলছে ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের কাজ। ফলে সড়কটিতেও লেগে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার বেশিরভাগ সড়কে চলছে উন্নয়ন কাজ। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সেবাদানকারী সংস্থা, ঢাকা ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস, ডেসকোসহ সড়কের নিচে থাকা অন্যান্য সংস্থার সার্ভিস লাইন ঠিক করতে প্রতিনিয়ত রাস্তা কাটতে হচ্ছে। বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে সব সময়ই নগরীর সড়কে এমন চিত্র দেখা মিলে। সংশ্লিষ্ঠ সত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট রাস্তার পরিমাণ দুই হাজার এক’শ কিলোমিটারের বেশি। এর প্রায় অর্ধেক রাস্তাই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। বিশেষ করে নগরীর অলিগলির অবস্থা খুবই নাজুক। এই প্রেক্ষাপটে দুই সিটিতে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য এবারের বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া দক্ষিণের রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণে একনেক সভায় ৫২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এসব বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রাজধানীসহ সারদেশের রাস্তার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছি। কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কারণে আমাদের সুনাম নষ্ট হছে। আপনারা যে কোন এলাকার রাস্তা নির্মানে অনিয়ম দেখলে আমাদের লিখিত ভাবে জানাবেন। আমরা দ্রুত ব্যাবস্থ নিব। ঐসব ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তীতে আমরা কাজ দিব না।