Print

ঐশী ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ

জাতীয় ডেস্ক | তারিখঃ  ২৬.০৮.২০১৫

পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমান ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল্লাহর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

 মঙ্গলবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঐশীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ ও মাহবুবুর রহমান রানা সাক্ষীকে জেরা করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। গত বছরের ৬ মে ঐশীসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। এরপর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠালে নতুন করে চার্জ গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৩০ নভেম্বর নতুন করে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। নিহত পুলিশ দম্পতির একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানসহ তিনজন এ মামলার আসামি। আসামিদের মধ্যে ঐশী ও তার বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি কারাগারে আটক আছেন। মিজানুর রহমান রনি জামিনে থেকে আদালতে হাজির ছিলেন। এ মামলার অপ্রাপ্ত বয়স্ক আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমির বিচার চলছে শিশু আদালতে। গত ২০ মে সুমির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন শিশু আদালতের বিচারক জাকিয়া পারভীন। এরপরই তিনি সুমিকে জামিন দেন। গত ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পেয়েছে সে। সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি মাহবুবুর রহমান জানান, মামলাটির ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এর আগে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৩৭তম সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দু’টি চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। ওই বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ঐশী জবানবন্দি দেয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছিল দাবি করে ৫ সেপ্টেম্বর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। আদালত তা নথিভূক্ত রাখার নির্দেশ দেন।