Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Premier Bank Ltd

ভারি বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কা

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ৩১.০৮.২০১৫

কালো মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে ভাদ্রের আকাশে, সকাল থেকেই সারা দেশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও চলছে টানা বৃষ্টি।

এতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি বাড়ছে বেশি। টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জনজীবন কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। সকালে অফিসমুখী মানুষকে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ভিজতে হয়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির এ বাড়-বাড়ন্ত। এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। 

অতিভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।  আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারি এবং দেশের অন্যত্র মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।  আজ ঢাকায় বাতাসের গতি দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার। ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ ডিগ্রি। 
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। এ ধারা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা শহরের আশপাশের নদ-নদী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে । আগামী ৭২ ঘণ্টা এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর, মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাসমূহের কতিপয় স্থানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। 
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডালিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চকরহিমপুরে করতোয়ার পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিংড়ায় গুর নদীর পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঘাবাড়িতে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এলাসিন স্টেশনে ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লাখপুর স্টেশনে লাক্ষা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, গোয়ালন্দে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপরে, ভাগ্যকূলে ৯ সেন্টিমিটার এবং সুরেশ্বরে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট স্টেশনে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি অমলশীদ স্টেশনে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ও শেওলা স্টেশনে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরাতন সুরমা নদীর পানি দেরাই স্টেশনে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদুকাটা নদীর পানি লরেরগড় স্টেশনে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কংস নদীর পানি জারিয়াজঞ্জাইল স্টেশনে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিতাস নদীর পানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবোর ৮৫টি পানি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে ৫৩টি স্থানে পানি বৃদ্ধি ও ৩০টি স্থানে পানি হ্রাস পেয়েছে। দুটি স্থানে পানির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২০টি স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।