Wednesday 7th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

মালিক-শ্রমিকের যৌথ সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয় লিবাস টেক্সটাইলস

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০১.০৫.২০১৬

রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ বা বেতন-বোনাসের ঝামেলা ইত্যাদি কোনও কিছুই নেই গাজীপুরের লিবাস টেক্সটাইলস লিমিটেডে।

মলিক-শ্রমিকের যৌথ সিদ্ধান্তেই কারখানাটি পরিচালিত হয়।সময়মতোই পরিশোধ করা হয় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।কারখানায় রয়েছে শ্রমিকদের নির্বাচিত ওয়ার্কার পার্টিসিপেশন কমিটিও (ডব্লিউপিসি)।গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত এই লিবাস টেক্সটাইলস লিমিটেড।বর্তমানে কারখানার শ্রমিক সংখ্যা ৪ হাজার আর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৬ শতাধিক। আগামী একবছরে কারখানায় আরও ৩ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারখানার নির্বাহী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল মান্নান বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী কারখানার শুরু থেকেই ওয়ার্কার পার্টিসিপেশন কমিটি (ডব্লিউপিসি) রয়েছে। মেইনটেন্যান্স, কোয়ালিটি, সুইং, ডাইংসহ বিভিন্ন শাখা থেকে অপারেটররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।স্টাফ থেকেও প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।প্রতিনিধিরাই কারখানা উন্নয়নের জন্য তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এর ফলে শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও কাজের পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিতের মাধ্যমে উৎপাদন পরিবেশ তৈরি করা হয়।
কারখানার সুইং অপারেটর সেলিম মিয়া বলেন, কারখানায় অভিযোগ বাক্স রাখা আছে। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে গোপনে যেকোনও শ্রমিক ওই বাক্সে অভিযোগ করতে পারেন।এছাড়া আমাদের ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কার পার্টিসিপেশন কমিটি (ডব্লিউপিসি) রয়েছে।এদের মধ্যে শ্রমিক ২৫ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ২০ জন।শ্রমিক আছমা আক্তার জানান, তার পাঁচ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে। প্রতিদিন সন্তানকে কারখানার ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে তিনি কাজ করেন। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ৬ মাসের ছুটিও তিনি ভোগ করেছেন।
কারখানা শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা কারখানাটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি।কোনও ধরনের সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য ব্যবস্থাপক প্রথমে ওয়ার্কার পার্টিসিপেশন কমিটির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। পরে ওই কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।অপারেটর আমজাদ হোসেন বলেন, শিপমেন্টের চাপ থাকলে ব্যবস্থাপক শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি বা ওভারটাইম নির্ধারণ করেন।
কারখানার উৎপাদন মান পরিদর্শক (কোয়ালিটি কন্ট্রোলার) খালিদ হাসান বলেন, শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ বজায় রয়েছে লিবাস টেক্সটাইলে। গত কয়েক বছরে দেশে বিভিন্ন সময়ে হরতাল, জ্বালাও পোড়াও, বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন হয়েছে।এ কারখানায় তার কিছুই হয়নি।শ্রমিক-মালিকের সহাবস্থানের কারণেই এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতেও আমরা এরকমই থাকব।কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ এর নভেম্বরে ৪০০ শ্রমিক নিয়ে কারখানাটি যাত্রা শুরু করে।মুনাফার পাশাপাশি শ্রমিক-মালিকের সম্পর্ক এবং শ্রমিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে কারখানাটিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এবং কোনও শঙ্কার মুখেও পড়তে হয়নি।