Print

গর্ভের অবৈধ সন্তানসহ জোর করে তরুণীকে অন্যের সঙ্গে বিয়ে!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০৫.২০১৬ ১৪

পল্লী চিকিৎসক মেয়ে জামাইকে বাঁচাতে গিয়ে শশুর ও স্থানীয় শালিশ জোর করে অপকর্মের দায় চাপালো চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকারের উপর।

এ ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামে।সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, চন্ডীপুর বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নিলিমা ফার্মেসীর মালিক নড়িয়া উপজেলার নসাশন ইউনিয়নের ডা: নাজমুল হাসান রুগী (বাসার চোকদারের মেয়ে) তার নিকট নিয়মিত চিকিৎসা করানোর জন্য যেত। এই সুযোগে নাজমুল বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটিকে একান্ত পেতে চেষ্টা করে। এক সময় মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পরে। স্থানীয় ভাবে জানাজানি হয়ে গেলে নাজমুলের শশুর মোসলেম বেপারী স্থানীয় প্রভাবশালী শালিশ মোজাম্মেল ফকির, কুদ্দুস খালাসী, রাজ্জাক ফকির, সাঈদ মাদবর, বিল্লাল ফকির মোতালেব বেপারী গনদের সহযোগীতায় গত কয়েকদিন পূর্বে গ্রাম্য শালিশ বসিয়ে চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকারের উপরে দোষ চাঁপায়।
মেয়েটি বিয়েতে অসম্মতি জানায় তবুও জোরপূর্বক ভয়ভীতির মাধ্যমে বিয়ের সময় ছাপানো নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকারের সাথে বিয়ে দেয়।শালিশ রাজ্জাক ফকির বলেন, মেয়ের অভিযোগ সত্য নয়। জয়নালের দোকানে মেয়েটি চটপটি খেতে যেত। দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়া আসা করতো। তাই আমরা জয়নালকে সন্দেহ করি এবং ওকে বিয়ে করতে বাধ্য করি। তবে মেয়েটি নাজমুলের নিকট চিকিৎসা নিলেও সে ভালো ছেলে আমাদের গ্রামের জামাই। তার কোন দোষ নেই। তার উপর খালি খালি দোষ চাপানো হয়েছে।
মেয়ের মা বকুলী বেগম বলেন, আমার মেয়ের বুকে ফোঁড়া উঠেছে। ফোঁড়ার ব্যাথায় কান্নাকাটি করে। একদিন ওর কান্না দেখে মেম্বার বিল্লাল এর সহযোগীতায় চন্ডীপুর বাজারে ডা: মাজমুলের নিকট নিয়ে যাই। নাজমুল ফোঁড়া অপারেশন করে। বিল্লাল বলে কিছুদিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে ধোয়াতে হবে। ফোঁড়া ভালো হওয়ার কিছুদিন পর আমি দেখি আমার মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে জানাই নাই। গত কয়েকদিন আগে মেয়ে বলে নাজমুল ডাক্তার তার গর্ভের বাচ্চার বাবা। মাদবররা জোর করে আটকুরা জয়নালের সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়। তাই আমি নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।ইউপি সদস্য বিল্লালের শালী রোজিনা মুঠোফোনে বলেন, মেয়েটি খারাপ তাই এমন ঘটনা ঘটেছে। তা না হলে আমাদের সাথে তো কেউ এমন করেনি। ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ মেয়েটির দাই।
মেয়েটি বলেন, ডা: নাজমুল হাসান আমার চিকিৎসা করে এবং আমাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমার সাথে মেলামেশা করে। আমার পেটে বাচ্চা এলে আমি নাজমুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেই। যে দিন বিয়ের জন্য চাপ দেই তার পরেই মোজাম্মেল ফকির, কুদ্দুস খালাসী, রাজ্জাক ফকির, সাঈদ মাদবর এবং নাজমুলের শশুর আরো ৮ থেকে ১০ জন কে নিয়ে শালিশ বসিয়ে জোর করে চটপটি বিক্রেতা জয়নালের সাথে আমার বিয়ে দেয়। আমি মুখে কিছু না বলায় শালিশরা জোর করে ছাপানো নীল কাগজে টিপ নেয়।আমার সন্তানের পিতা ডা: নাজমুল আমি আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবী করছি। আমার সাথে প্রতারণার কারার বিচার চাই।রকোর্টের নির্দেশে নড়িয়া থানা পুলিশ ৩ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করে। পরে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।