Print

নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মানিয়ে নেওয়ার কার্যকর উপায় চিহ্নিত!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০৫.২০১৬

নগরায়নের চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পন্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার এই গবেষণা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরিকল্পিত নগরায়ন হওয়ায় প্রচুর চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার। শহরের মাত্র অর্ধেক বর্জ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব রাজধানীতে নিয়মিতভাবে বন্যা সৃষ্টি করে, যা পরিবহন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে বিঘ্নিত করে।   

‘বাংলাদেশের অগ্রাধিকার’ শিরোনামে কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের জন্য শ্রেষ্ঠ নীতিমালা চিহ্নিত করা যার মাধ্যমে ব্যয়িত প্রতি টাকায় সবচেয়ে বেশি কল্যাণ সাধন করা সম্ভব।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগিতায়, কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার, বাংলাদেশ, দেশি-বিদেশি সেরা ৭৮ জন অর্থনীতিবিদদকে এই প্রকল্পের ব্যয় এবং সুবিধাগুলো খতিয়ে দেখতে দায়িত্ব দিয়েছে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফিন কিডল্যান্ডসহ এক দল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এই গবেষণাটি বিশ্লেষণ করে দেখবেন এবং বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগগুলো চিহ্নিত করবেন।

কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. বিয়র্ন লোমবোর্গ বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সাথে, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটিতেই পরিণত হয়নি, সেইসাথে এটি সবচেয়ে বড় অপরিকল্পিত নগরেও পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার প্রকল্পটি এই ধরনের দ্রুত নগর এলাকার বৃদ্ধি সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে মানিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম উপায়গুলো চিহ্নিত করবে।’

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খোরশেদ আলম একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, রাজধানীতে সৃষ্ট সমস্যার মোকাবিলা করতে সবার আগে ভারী/কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

খুরশেদ আলম বলেন, ঢাকার বেশির ভাগ অংশেই যথাযথ বর্জ্য সংগ্রহ সেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলস্বরূপ, শহরের প্রায় অর্ধেক কঠিন বর্জ্য রাস্তার ধারে, খালে অথবা নিচু এলাকায় ফেলা হয়, যা পরিবেশগত ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, উৎস থেকে বর্জ্য বাছাই করতে হবে। যেগুলো পুনর্ব্যবহারের অযোগ্য বা কঠিন বর্জ্য সেগুলো নিরাপদে মাটিচাপা দিতে হবে। পুনব্যবহার্য বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা থেকে আয়ের উৎস তৈরি হবে। মোট ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় এনারোবিক কম্পোস্টিং এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহ এবং পরিচালনাসহ এই খাতে ব্যয়ের পর যে লাভ হবে তার জন্য ব্যয়িত প্রতি টাকায় ৬ টাকার সমপরিমাণ সামাজিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার সম্ভব। এ খাতে খরচের বেশির ভাগই নদীর জন্য একটি বর্জ্যজল পরিশোধন প্ল্যান্ট নির্মাণে যাবে। এতে আনুমানিক দুই হাজার ৫৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া এতে প্রয়োজন হবে নদী খনন, জমির উচ্চতা বাড়ানো, অবৈধ স্থাপনা স্থানান্তরে ব্যয়, নর্দমা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করতে নদীর চারধারে চলার পথ ও বসার বেঞ্চ তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত খরচ ৭৬৮ কোটি টাকার সমান হবে। নদী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থায় ব্যয়িত প্রতি টাকা প্রায় ১.৫ টাকার সুবিধা দেবে।