Sunday 22nd of January 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

****তরুণীর মামলায় গ্রেফতার ক্রিকেটার আরাফাত সানি * শান্তি কামনায় শেষ হলো ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

খুলনায় খুন বেড়েছে আড়াই গুণ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৮.০১.২০১৭

রক্তাক্ত জনপদ খুলনায় খুনের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

বিদায়ী বছর খুনের সংখ্যা ছিল ৭৬ জন, যা আগের বছর অর্থাৎ ছিল ৩০ জন। বিদায়ী বছর ৬৪ ধর্ষণ এবং ২৭৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে ধর্ষণ ছিল ৬৮টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দু’শতাধিক। বিদায়ী বছরে মাদককে কেন্দ্র করে পিটিআই মোড়ে ছাত্রলীগ কর্মী সৈকত হাসান রোহানের খুন ছিল সবচেয়ে আলোচিত। বছরের শেষদিনে নগর আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনের হত্যা চেষ্টার ঘটনায় শাসকদলের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গেল বছর সবচেয়ে বড় অপরাধের ঘটনা ঘটে ১৭ মার্চ জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা, পুলিশ প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন ও পত্র পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, খুনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা। নারী খুনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌতুকের জন্য নারী খুনের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদায়ী বছরের জানুয়ারি মাসে পাঁচ খুন, চার ধর্ষণ, ২৬ নারী ও শিশু নির্যাতন, ফেব্র“য়ারি মাসে আট খুন, দুই ধর্ষণ, ১৬ নারী ও শিশু নির্যাতন, মার্চ মাসে তিন খুন, পাঁচ ধর্ষণ, ২৭ নারী ও শিশু নির্যাতন, এপ্রিলে পাঁচ খুন, আট ধর্ষণ, ২২ নারী ও শিশু নির্যাতন, মে মাসে আট খুন, তিন ধর্ষণ, ১৯ নারী ও শিশু নির্যাতন, জুন মাসে ছয় খুন, চার ধর্ষণ, ১৫ নারী ও শিশু নির্যাতন, জুলাই মাসে পাঁচ খুন, ছয় ধর্ষণ, ৩১ নারী ও শিশু নির্যাতন, আগস্ট মাসে সাত খুন, পাঁচ ধর্ষণ, ৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন, সেপ্টেম্বর মাসে সাত খুন, দশ ধর্ষণ, ২১ নারী ও শিশু নির্যাতন, অক্টোবর মাসে সাত খুন, দশ ধর্ষণ, ২৮ নারী ও শিশু নির্যাতন, নভেম্বর মাসে সাত খুন, পাঁচ ধর্ষণ, ২৭ নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডিসেম্বর মাসে আট খুন, দু’ধর্ষণ ও ১৭ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল বছরের জানুয়ারি মাসে ল’ কলেজের শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের লাশ খানজাহান আলী রোডের ড্রেন থেকে, কুয়েটের শিক্ষার্থী রকি আলমের গলিত লাশ, ২৬ ফেব্র“য়ারি বটিয়াঘাটায় নাজমা বেগম ও তার দশ বছরের শিশু বিষক্রিয়ায় নিহত, মার্চ মাসে লবণচরায় কিশোর শহীদুল ইসলাম খুন, ৯ এপ্রিল দৌলতপুরে বিএনপি নেতা আলমকে গুলি করে হত্যা, বছরের শেষদিনে দোলখোলার শীতলাবাড়ির কাছে শিপ্রা কুন্ডু নামের ব্যাংকার স্ত্রী খুন, জানুয়ারি মাসে সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর সুমন কর্তৃক ধর্ষণ এবং ১৭ মার্চ জেনারেল হাসপাতাল থেকে মোঃ ইদ্রিস আলী শেখের নবজাতক চুরি সবচেয়ে আলোচ্য ঘটনা। স্থানীয় অন্যান্য সূত্রগুলো বলেছে, গেল বছর স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউপি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে মারামারির ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গেল বছরের নভেম্বরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, এ অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এমপি এক সংবাদ সম্মেলনে আ’লীগ নেতা ডনের ওপর হামলার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ি করেন। তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভাষ্য, ঈদের দিনেও মারামারি ও খুনের মত ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বেগম হালিমা ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম সবুজ বিভিন্ন সভায় মাদক প্রতিরোধে পুলিশকে সচেতন হতে পরামর্শ দেন।