Saturday 25th of March 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

***আইপিএলকে বাতিল করে দিল বিসিসিআই!***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ খুলনাবাসী

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০১.২০১৭

বছরের শুরুতেই লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ খুলনাবাসী।

একই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের দামও। বিদায়ী বছরের তুলনায় চলতি বছরের শুরুতে সিলিন্ডার প্রতি গ্যাসের মূল্য বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর সিলিন্ডারের মূল্য বেড়েছে প্রায় ৩শ’ টাকা। স্বল্প সময়ের মধ্যে এলপি গ্যাস ও সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিবাদ, নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। নগরীর খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ আহম্মেদ জানান, গেল মাসে সিলিন্ডার ভর্তি গ্যাস কিনেছি ৯শ’ টাকায়। কিন্তু চলতি সপ্তাহে তা কিনেছি সাড়ে ৯শ’ টাকায়। হঠাৎ করেই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অনেক ডিলার ৯৭০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। এক লাফে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এ বিষয়ে সরকারের তদারকির প্রয়োজন। ডিলার মনিরুল ইসলাম বাবু ও নাহিদ জানান, সিলিন্ডার প্রতি গ্যাসের মূল্য ৫০ টাকা বেড়েছে। পূর্বের চেয়ে এখন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার প্রতি গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কোম্পানি গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর কারণে বাধ্য হয়ে আমরাও গ্যাসের মূল্য বাড়িয়েছি।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, একেতো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষে পাইপ লাইনে গ্যাস থেকে বঞ্চিত। ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাসের সাপ্লাই থাকলেও এ অঞ্চলে নেই। এ অঞ্চলের মানুষ এলপি গ্যাসের ব্যবহার করে। অথচ অধিক মুনাফার জন্য কোম্পানিগুলো বছরের শুরুতেই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানী তেলের দাম নিম্নমুখী। সেখানে কোন কারণ ছাড়াই অযৌক্তিক কোম্পানিগুলোর এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে। এদিকে গত মঙ্গলবার খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, কয়েকটি কোম্পানি অধিক মুনাফার আশায় অযৌক্তিকভাবে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়তি অর্থ গুণতে হচ্ছে এবং নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। খুলনা এলপি গ্যাস ডিলার সমিতির সভাপতি শেখ তোবারেক হোসেন

তপু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের কাঁচামাল, লিক্যুইড পেট্রোল ও জ্বালানী তেলের দাম স্থিতিশীল। অথচ কোন কারণ ছাড়াই রাতারাতি দেশের কোম্পানিগুলোর গ্যাস ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এর প্রতিবাদে ডিলাররা সভা-সমাবেশ করেছি। আগামী ১৪ জানুয়ারি বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সম্মিলিত জোটের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি বলেন, অবিলম্বে এ অযৌক্তিক মূল্য কমানো না হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে অবস্থান ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। মহানগর বিএনপি : গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার্য এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, আকস্মিকভাবে দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের দাম অযৌক্তিক হারে বাড়ানোর কারণে চাপের মুখে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিবৃতিতে এদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম, নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসি’র মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ মোশারফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, খায়রুজ্জামান খোকা, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, ফখরুল আলম, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মাহবুব কায়সার, ইকবাল হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ। ওয়ার্কার্স পার্টি, খুলনা : অযৌত্তিকভাবে এলপি গ্যাস ও সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দলটির নেতৃবৃন্দ বলেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেল, গ্যাস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায় তখন দাম বৃদ্ধি করা সস্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক ও অযৌক্তিক। বিবৃতিদাতারা হলেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. মিনা মিজানুর রহমান, পার্টির নেতা শেখ সাহিদুর রহমান, আনসার আলী মোল্লা, মোজাম্মেল হক, দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, শেখ মফিদুল ইসলাম, এস এম ফারুখ-উল-ইসলাম, মনিরুজ্জামান, গাজী নওশের আলী, গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, শেখ মিজানুর রহমান, বাগেরহাট সভাপতি এড. মহিউদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক কমরেড তুষার কান্তি দাস প্রমুখ।