Print

অভিযুক্ত নৈশপ্রহরী কালাম গাজী গ্রেপ্তার

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ০২.০৪.২০১৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার বাবুল আক্তারকে (৪৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে একই প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী আবুল কালাম গাজীকে পুলিশ গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করেছে।


শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান নৈশপ্রহরী আবুল কালাম গাজীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা শেখ আনছার উদ্দীন বাদী হয়ে কালাম গাজীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। বাবুল আক্তারের লাশ গতকাল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল আলম জানান, নূরনগর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার বাবুল আক্তার বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই ওই মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী আবুল কালাম গাজী তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তারপর থেকে কালাম গাজী পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নূরনগর গ্রামের মাহফুজ গাজীর বাড়ির ছাদের ওপর তাঁকে দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজন ওই বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে তাঁরা কালাম গাজীকে আটক করে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসেন। থানায় খবর দেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
নূরনগর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার আবদুল জব্বার ও সহকারী শিক্ষক লিয়াকত হোসেন জানান, মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত আবুল কালাম গাজীর দ্বন্দ্ব চলছিল। শুরুতে কালাম গাজীকে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার পর মাদ্রাসা সুপার তাঁর শ্যালককে একই প্রতিষ্ঠানের দপ্তরি হিসেবে নিয়োগ দেন। এ সময় থেকে কালাম গাজীকে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দপ্তরি হিসেবে কর্মে যোগদানের পর নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনে শুরু থেকে অনীহা প্রকাশ করছিলেন কালাম গাজী। এ কারণে ক্ষুব্ধ কালাম গাজী এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন।