Print

নদী দখল করে মাছ চাষ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ১৭.০৪.২০১৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নে ৪ কিলোমিটার গগনা নদী অবৈধ দখলে নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ শুরু করেছে।

সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে নদীর বিভিন্ন স্থানে কয়েটি অংশে ভাগ করে আড়াআড়ি নেট-পাটা দিয়ে জনসাধারণের নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের গগনা নদীর দু’পাড়ের গ্রামগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় তেমন কোনো রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মিত হয়নি। বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাসীকে সরু রাস্তায় কাদা ভেঙে হেঁটে অথবা নৌ-পথে গগনা নদী দিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে হয়। এসব কারণে পশ্চাৎপদ এ এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কৃষিপণ্য ও মাছের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম গগনা নদী। তবে ৪ কিলোমিটার এ নদীটির স্থানীয় প্রভাবশালীরা আড়াআড়ি নেটপাটা দিয়ে নৌ-চলাচল একেবারই বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিল সংলগ্ন গ্রামবাসী পড়েছে বিপাকে। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিল পাবলা গ্রামে ‘পশ্চিম বিল পাবলা সমবায় সমিতি লি.’-এর পক্ষে তাপস মল্লিক নামের এক লোক ওই গগনা নদীটি ১৫ একর জলাকার দেখিয়ে ৪ হাজার, ৭শ’ ২৫ টাকা সরকারি রাজস্ব জমা দিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ইজারা গ্রহণ করেন। তাছাড়া স্থানীয় ধাইগা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে কয়েকজন মিলে খুলনা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব থেকে ১শ’ ৬৬ একর জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে আরও একটি চক্র বিভিন্ন সমবায় সমিতির নামে ওই ৪ কিলোমিটার নদীর কিছু অংশ ইজারা গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। এরপর ওই চক্রগুলো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এলাকার একাধিক লোকের কাছে গগনা নদীটি খণ্ড খণ্ড অংশে সাব-ইজারা হিসেবে বিক্রি করেছেন। পরে সাব-ইজারাদার তার অংশের জায়গায় ওই নদীতে আড়াআড়ি নেটপাটা দিয়ে  অবলীলায় মাছ চাষ শুরু করেছেন। পশ্চিম বিল পাবলা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী জয়দেব ঢালী ও কৃষক বিষ্ণু বৈরাগী জানান, এ নদীর দুই পাড় ঘেষে রয়েছে রংপুর, দেয়ানা, দৌলতপুর, বিলপাবলা, উত্তর বিলপাবলা, পশ্চিম বিলপাবলা, কুলটি, পঞ্চু ও ধাইগাসহ ৯টি গ্রাম। তাছাড়া ওই  নদী ও গ্রাম সংলগ্ন আরও অনেক বড়-ছোট বিলসহ শত শত চিংড়িঘের ও সবজির  ক্ষেতখামার রয়েছে। এলাকাবাসী স্থানীয় এসব বিলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, ধান, মাছ, পাট, তিল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিশাল এ এলাকার জনদুর্ভোগ লাঘবে এসব পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল নৌপথে পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম গগনা নদী। তাছাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ গুটুদিয়া ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার ওই সকল নদী ও খালের নেটপাটা অপসারণে একাধিবার মাইকিং করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সূত্র জানায়, গগনা নদী দখল নিয়ন্ত্রণ করেন ওই এলাকার কুলটি গ্রামের ইউপি সদস্য নিউটন রায়, সুরাজ সরদার, দুলাল রায়সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। সাব-ইজারাদার নিউটন রায় জানান, তিনি মাত্র ৬ একর খাল দখল নিয়ে মাছ চাষ করেন। তবে নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা যাবে কি যাবে না, এ আইন তার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সামছুদ্দৌজা জানান,  কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারে নিকট থেকে জলাশয় ইজারা গ্রহণ করে সাব-ইজারা দেয়ার নিয়ম নেই। তাছাড়া নদী বা খালে নেটপাটা দিয়ে নৌ-চলাচল বন্ধ করতে পারবেন না। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এমনকি তাদের ইজারা বাতিল করারও বিধান রয়েছে।