Print

ভিসিবিরোধী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করল ছাত্রলীগ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ৩০.০৮.২০১৫

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের (ভিসি) অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, উপাচার্য ও ছাত্রলীগ এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একই জায়গায় অবস্থান করা নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আজ রোববার সকাল ৯টার অবস্থান কর্মসূচির এক ঘণ্টা আগে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের নেতারা। তারও এক ঘণ্টা আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগ এসে উপাচার্য ভবনের নিচতলা দখলে নেয়। সকাল সাড়ে ৮টায় উপাচার্য ড. এম আমিনুল হক ভুঁইয়া তাঁর কার্যালয়ে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা তাঁকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেন। শুরু হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি ও টানাহেঁচড়া। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভিসি কার্যালয়ের নিচতলা থেকে নামিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। কেড়ে নেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ব্যানার।

এ হামলার জন্য উপাচার্য ও ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বানচাল করতে উপাচার্যের মদদে ছাত্রলীগ শিক্ষক লাঞ্চিত করার এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামছুল আলম  বলেন, ‘ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। ভিসির নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। আমাদের একটা ব্যানার ছিল, ব্যানারটা কেড়ে নিয়েছে। ছাত্রলীগের হামলায় আমাদের অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। কেউ পড়ে গেছেন, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে, ঘুষি মেরেছে। অধ্যাপক ইয়াসমিন হককে ঘুষি মেরেছে, লাঞ্ছিত করেছে।’ 

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন হক বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলছে। আমরা (ভিসিকে) ভেতরে ঢুকতে দেব না। ধাক্কা মেরে ঢুকেছে।’ ভিসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই ছাত্রলীগকে পুষছেন। আমাদের কাছে খবর আছে, আমরা জানতাম যে ওরা (ছাত্রলীগ) আজ ভোর ৬টার সময় এসে পৌঁছাবে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য ড. এম আমিনুল হক ভুঁইয়া জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করার জন্য কার্যালয়ে আসার সময় তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষক কাছে বাধা পেয়েছেন।  শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর সাধারণ ছাত্রছাত্রীর ব্যানারে ভিসির পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভিসি বলেন, ‘বর্তমানের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। তারই প্রেক্ষাপটে আজ সাড়ে ১০টায় আমার মিটিং। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কর্তৃক আমি আসার পথে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। নির্দিষ্ট করে বললে প্রফেসর ফারুক উদ্দিন, প্রফেসর ইয়াসমিন হক আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছেন। আমি অ্যাসিসট্যান্ট প্রক্টর ও অন্যদের সহায়তায় আমার অফিসে প্রবেশ করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগকর্মী বলেন, ‘তারা যে দাবি করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে অপব্যবহার করেছি, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।  আমাদের ভিসি স্যার ছাত্রদের জন্য সম্পূর্ণ আন্তরিক। তাদের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং পেছানো হয়েছে। আজকের মিটিং থেকে ছাত্রদের সংশ্লিষ্ট অনেক সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু ওনারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং বাধাগ্রস্ত করেছেন। ওনারা ভার্সিটির টিচার, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে এখানে আন্দোলন করতে এসেছেন।’

গত ১৩ এপ্রিল থেকে উপাচার্যকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকদের একাংশ। যার অংশ হিসেবে গত ২০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি প্রশাসনিক পদ থেকে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৩৫ জন পদত্যাগ করেন।