Print

লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে খুলনার পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০২.০৫.২০১৬

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবাহমান নদ-নদীর পানিতে লবণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতি বছরই এ অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় লবণ পানি প্রবেশ করছে এবং জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি কম আসা,নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নোনা পানিতে মাছ চাষ, বাঁধ নির্মাণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভৌগোলিক অবস্থানকেই এজন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো.মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন,মাটিতে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তার উর্বরতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। ধানের থোড় হবে না, চিটা বেশি হবে। অনেক সময় চারাই গজাবে না। দীর্ঘমেয়াদী লবণ পানিতে মাছ চাষ করলে সেই মাটিতে ঘাস পর্যন্ত জন্মাবে না। স্যালাইন জোনে বাতাসেও লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এতে করে শহরের দালান-কোটা, লোহার তৈরি স্থাপত্য, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে।
খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, পানিতে ৫-৬ পিপিটি পর্যন্ত লবণের মাত্রা এ অঞ্চলের পরিবেশের জন্য সহায়ক। এই মাত্রায় টক ফল ধরে এমন গাছপালা ভালভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে এর বেশি হলে তা পরিবেশ ও অন্যান্য গাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত লবণ পানি জমিতে প্রয়োগ করলে ধান ও গমসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ব্যাহত হতে পারে।
ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সেচ কাজের জন্য ময়ূর নদীর পানি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর পানিতে বেশি লবণ থাকে। তখন এই পানি ব্যবহার করলে ফসলের ক্ষতি হয়। তাছাড়াও এ অঞ্চলের মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি। এই লবণ কমাতে ক্ষেতে জিপসাম ও সালফার সার প্রয়োগ করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নদীগুলোতে লবণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। ভৈরব নদ নওয়াপাড়া ঘাটে জানুয়ারি মাসে লবণের মাত্রা ছিল ০.২ পিপিটি, মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৯ পিপিটি, ফুলতলা ঘাটে ১.২ থেকে ৬.০১ পিপিটি, চরেরহাট ঘাটে ১.২ থেকে ৬.৪ পিপিটি, রূপসা ঘাটে ১.৮ থেকে ৭.৬ পিপিটি, ময়ূর নদীতে ১.০ থেকে ১.৪ পিপিটি, বিলডাকাতিয়ায় ১.২ থেকে ১.৮ পিপিটি, পশুর নদীতে ৩.১ থেকে ১২.৮ পিপিটি, মোল্লাহাট মধুমতি ০.১ থেকে ০.৫ পিপিটি, কাজিবাছা নদীতে ১.৩ থেকে ৬.২ পিপিটি, কাকশিয়ালী নদীতে ৬.৫ থেকে ১৪.৩ পিপিটি।
২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ২০১৫ সালের জুন মাসে ময়ূর নদীতে লবণের মাত্রা ০.৫ পিপিটি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ০.৮ পিপিটি, ভৈরব নদ নওয়াপাড়া ঘাটে ০.৩ পিপিটি থেকে ১৬.২ পিপিটি, ফুলতলা ঘাটে ০.৩ পিটিটি থেকে ১৬.৩ পিপিটি, চরেরহাট ঘাটে ০.৩ পিপিটি থেকে ১৬.০১ পিপিটি, রূপসা নদীর রূপসা ঘাটে ০.৪ পিপিটি থেকে ১৬.৫ পিপিটি ও লবণচরা ঘাটে ০.৪ পিপিটি থেকে ১৬.৮ পিপিটি, পশুর নদীতে ৩.৭ পিপিটি থেকে ১৬.৭ পিপিটি, মধুমতি নদীতে ০.০ পিপিটি থেকে ০.৩ পিপিটি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে লবণের মাত্রা ৩-৫ পিপিটি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট খুলনার তথ্য মতে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নদীগুলোর লবণের মাত্রা ১২-১৬.৭ পিপিটি (পার্টস পার ট্রিলিয়ন) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। খুলনা জেলা ও এর আশপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর পানিতে লবণাক্ততা অধিক ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছেছে এবং তা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।