Saturday 10th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

বড় ধরনের ঝুঁকিতে খুলনার বড় বাজার!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৫.০৫.২০১৬

ঘুটঘুটে অন্ধকার। আঁকা বাঁকা সরু গলিপথ। যার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জীর্ণশীর্ণ ভবন।

দিনের বেলাতেও আকাশের দেখা মেলে না। এর মধ্যে প্রতিদিনই চলছে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরনো ভবনের অবৈধ সম্প্রসারণ। সংকুচিত রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ বড় কোনো গাড়ি ঢোকার পথ নেই। অথচ এটিই খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাচীন বাজার (বড়বাজার)। যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের আনাগোনা হয়।

বিশেজ্ঞরা মনে করছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অথবা বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বড়বাজারে। সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যস্ততম এ বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বৃহৎ বাজার এই বড়বাজার। প্রায় দু'শ' বছর পূর্বে খুলনার বড় বাজারের গোড়াপত্তন হয়। কালিবাড়ী ঘাট এলাকা হতে রেল স্টেশন সংলগ্ন লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত ভৈরব নদের তীরবর্তী বাজারটি খুলনা বড় বাজার হিসেবে পরিচিত।

প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের পাড় ঘেঁষে ওয়েস্ট মেকড রোড, ভৈরব স্ট্র্যান্ড রোড, হেলাতলা রোড, কালীবাড়ী রোড, ক্লে রোড, কেডিঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোডের একাংশ ও স্টেশন রোড নিয়ে বড় বাজারের অবস্থান। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বড় বাজারের নাম ছিল ‘চার্লিগঞ্জ’ বা ‘সাহেবের হাট’। নীল কুঠিয়াল চার্লস এ বাজার প্রতিষ্ঠার কারণে তার নামেই নামকরণ হয় বাজারটির। বাজারটিতে বর্তমানে ছোট-বড় ১০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবধরনের পোশাক ও পণ্য এবং খাদ্যদ্রব্য পাইকারি বেচাকেনার পাশাপাশি খুচরা বিক্রি হয় এ বাজারে।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়বাজারের ফুটপাতগুলোতে যে যার মতো করে বসেছে। প্রবেশ পথগুলোর সিংহভাগ অবৈধ দখলদারদের দখলে। বাদাম তলার মোড়ে শত শত ট্রাক দখল করে রেখেছে আশপাশের সড়কগুলো। অনেক স্থানে ময়লার স্তুপ, সংকুচিত রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ বড় কোনো গাড়ি ঢোকার পথ নেই, চারপাশে ঘিঞ্জি পরিবেশ, স্বাচ্ছন্দ্যে বেচাকেনা করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। হাঁটতে পারছেন না পথচারীরা।

এছাড়া খুলনা মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে নগরীর বড়বাজারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এ বাজারের অধিকাংশ দ্বিতীয় তলা ও তিনতলা ভবনের ওপরের অংশে ভাড়াটিয়ারা পরিবারপরিজন নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

বাজারের প্রবীণ ফল ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট, স্যানিটেশন সমস্যা, জলাবদ্ধতা নিয়েই আমরা বছরের পর বছর ব্যবসা করছি।

তিনি জানান, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় এ বাজারে। পানি সরে যাওয়ার পর রাস্তায় ময়লা আবর্জনা পচা কাদার স্তূপ জমে। যা শুধু ক্রেতাদেরই নয়, বাজারের ব্যবসায়ীদেরও সমস্যার সৃষ্টি করে। বড়বাজারে অনুমতি ও নকশা ছাড়াই তৈরি হচ্ছে ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পুরনো বাড়িগুলোর অবস্থা এতোই নড়বড়ে, যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

খুলনা বড়বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সুলতান মোল্লা বাংলানিউজকে বলেন, বড়বাজার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি সভাপতি থাকাকালীন বহু চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

তিনি জানান, এলাকার ড্রেনের ওপর কেউ কেউ ঘর তুলে গুদাম বানিয়েছেন। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের রাস্তাঘাট নোংরা পানিতে তলিয়ে যায়। যানজটের কারণে কেউই বাজারে ঢুকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

খুলনা বড়বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্যামল হালদার বলেন, বড়বাজারের চিপা সরু গলির মধ্য দিয়ে দমকল কিংবা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া মহেন্দ্র দাশের মোড়ে সিটি কর্পোরেশন ভবন তৈরি করে ভাড়া দেওয়ায় আরও ভোগান্তি বেড়েছে।

তার আশঙ্কা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অথবা বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বড়বাজারে।

নগর বিশেষজ্ঞ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. সুরাইয়া ইয়াসমীন হিরা বলেন, বড়বাজারের আজকের এ দূরবস্থার পেছনে পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রয়োজনীয় আইন-কানুন বাস্তবায়নের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অসেচতনতা, পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অদূরদর্শিতা, নগর পরিকল্পনা বিষয়ে জ্ঞানের অভাব।

তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যস্ততম এ বাজারের দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা উচিত।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার বলেন, বড়বাজারের জমির মালিক জেলা প্রশাসক। সেখান থেকে জায়গা লিজ নিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা নিজেদের ইচ্ছামত যত্রতত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বাজারকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বড়বাজার নিয়ে সিটি কর্পোরেশনও চিন্তিত। বাজারকে আধুনিকায়ন ও রক্ষা করার জন্য তাদেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারকে কেন্দ্র করে দুই কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধের কাজ ১৯১৭-১৮ সালের মধ্যে শুরু হবে।