Print

আবার উত্তপ্ত খুলনার পাটকল শিল্পাঞ্চল

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৪.০৫.২০১৬

আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে খুলনার পাটকল শিল্পাঞ্চল।

শ্রমিক কর্মচারীদের চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং নতুন করে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সিবিএ-নন সিবিএ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেনকে চাকরিচ্যুত করার ফলে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল মাসে ৯ দিন ব্যাপী পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে দাবি মেনে নেয় সরকার। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় প্রধামন্ত্রীর মে দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় মজুরি ঘোষণা দেবেন। অন্যান্য দাবিগুলো ২৫ এপ্রিলের মধ্যে মেনে নেবে। পরিষদের আহবায়ক মো. সোহবাব হোসেন জানান, ১ মে মজুরি কমিশনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অন্যান্য যে সব দাবি সরকার মেনে নিয়েছিল ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন করেনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সাপ্তাহিক মজুরি বকেয়া ছিল তা পরিশোধ করেছে মাত্র।
খুলনার শ্রমিকের সূত্রগুলো জানায়, শ্রমিকদের আন্দোলন সরকার যে সব দাবি মেনে নিয়েছিল তার মধ্যে প্রধান ধারাগুলো ছিল আন্দোলনকালিন সময়ের ৯ দিনের হাজিরা দেওয়া, দুই বছরের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (এরিয়া) পরিশোধ করা এবং মে দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মজুৃরি কমিশন ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এ সব দাবির কোনটাই বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে কোন আশ্বাসই সরকারের পক্ষ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরপর ১১ মে দাবি বাস্তবায়নে সিবিএ-নন সিবিএ শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করলে পরিষদের নেতা সোহরাবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আরো কয়েকজন নেতাকে চাকরিচ্যুত করার জন্য তালিকা করা হয় বলে শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়্।ে এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকরা বন্ধ করে দেয় ক্রিসেন্ট জুট মিল। অন্যান্য জুটমিলের শ্রমিকদের মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দাবি, পাট প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের ব্যাপারে নমনীও হলেও বিজিএমসি’র চেয়ারম্যানের একগুয়েমির কারণে পরিস্থিত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্দোলনকালিন ৯ দিনের হাজিরা প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম মেনে নিলেও বিজিএমসির চেয়াম্যান সেটা মানেনি। এর আগে পাটপ্রতিমন্ত্রী দাবি মেনে নিতে সম্মত থাকলেও অর্থমন্ত্রীর একগুয়েমির কারণে মানা হয়নি। শ্রমিকরা ৯দিন ধরে আন্দোলন করে।
এর আগে পাটকল শ্রমিকদের সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শ্রমিকরা পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, মজুরি বৃদ্ধি, বকেয়া মজুরি প্রদান, ২০ শতাংশ মহার্ঘ-ভাতার এরিয়াসহ পাঁচ দফার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। এর ৯ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। পরের দিন ১৩ এপ্রিল সরকারের সঙ্গে শ্রমিকদের চুক্তি হয়। ২৫ তারিখ দাবি বাস্তবায়নের ডেডলাইন দেয়া হয়।
এদিকে মেনে নেওয়া দাবি এবং শ্রমিকনেতাদের চাকরিচ্যুতির ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিত যেন আবারও যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সে জন্য ওই অঞ্চলের শ্রমিক নেতা ও শ্রম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মন্নুজান সুয়িান এখন খুলনায় অবস্থান করছেন। আজ শনিবার বিকেলে খুলনায় শ্রমিক সমাবেশ করছেন।