Tuesday 25th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত * রাজধানীতে কালবৈশাখীর ছোবল * আজ পবিত্র শবে মেরাজ * ৪ বছর পরও রানা প্লাজায় আর্তনাদ * রাজধানীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা * ঢাবিতে ফের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ * যুবদল-ছাত্রদলের কমিটি গঠনের নির্দেশ খালেদার **

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বেদের টঙে সৌর বিদ্যুৎ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০১.২০১৭

‘এক ঘাটেতে রান্ধি রাড়ি মোরা আরেক ঘাটে খাই, মোদের সুখের সিমা নাই।

নামটি আমার গয়া বাইদা বাবু সাপ খেলা দেখাই’। গ্রাম বাংলায় বহুল প্রচলিত এই গান সবার মুখে মুখে শোনা যায়। বেদে বহরের জনগণের এই সুখ আসলে কতটুকু?বুধবার গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার দলদলা গ্রামের আমবাগানে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ঢাকা সাভারের পোড়াবাড়ি থেকে আগত বেদে বহরের গেলে দেখা যায় তাদের আসল চিত্র। তারা টঙ ফেলে সেখানে চৌদ্দটি পরিবার বাস করছেন। তাদের ঘরে সৌর বিদ্যুতের আলো থাকলেও নাই তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো। স্কুলের যাওয়ার উপযুক্ত শিশুরা পরিবারের সঙ্গে একস্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানোর কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্কুলের সময়ে তাদের দল বেধে খেলা করতে দেখা যায়।

শিক্ষা না থাকায় এবং অর্থের অভাবে সন্তানেরা একটু শারীরিকভাবে বেড়ে উঠলেই বিয়ে দিয়ে দেন তারা। তাদের ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বাল্য বিয়ের প্রবণতা অনেক বেশী। বাল্য বিয়ের ফলে তাদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। সন্তানের সংখ্যাও বেশী। তারা সবাই মিলে একটি টঙের মধ্যে গাদাগাদি করে বাস করায় শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠতেও তাদের সমস্যা হয়। রয়েছে পুষ্টির অভাব। এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে তাদের দিন কাটে।দু’মুঠো খাবার জোগাড় করার জন্য তারা সাত থেকে আট মাস নিজ এলাকার বাইরে থাকেন বলেন বেদে জাহিদুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন কোন কোন বেদে বহরে তাদের নিজশ্ব মাস্টার থাকে। তাতে শুধু সাক্ষরতা তারা শিখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের সাভারে স্থায়ীভাবে বসবাস করার মত জায়গা নেই। সরকারী কিংবা অন্যের জমিতে তারা টঙ ফেলে বসবাস করেন বলে তিনি জানান। সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ধেকে তারা বঞ্চিত। তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারলে তারাও তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেতে পারেন বলে তিনি জানান। সরদারের হুকুম ছাড়া কোন কাজ তারা করেন না বলে তিনি জানান।

অন্য এলাকায় তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে বেদেনী আসা খাতুন বলেন তারা যে এলাকায় বসবাস শুরু করেন সেই এলাকার পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করে বসবাস করেন। তিনি বলেন অর্থ উপার্জনের জন্য তারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। তাদের মুল পেশা স্বামী স্ত্রী উভয় মিলে সাপ খেলা, গাছ গাছরা দিয়ে তাবিজ তৈরী করে বিক্রি, ঝাড়ফুক ও পানিপড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করা বলে তিনি উল্লেখ করেন।প্রতিটি টঙে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে বেদে পলাশ বলেন তারা মাঠে ও বনের মধ্যে বসবাস করেন। ঝড় বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার মত কোন উপায় তাদের নেই। কেরোসিনের প্রদীপ ব্যবহার অনেকাংশে তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তারা টিভি, বাতি জালানো, মোবাইল চার্জসহ অন্যান্য কাজ করতে পারেন বলে তিনি জানান। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়নে তারাও কাজ করছেন বলে পলাশ জানান।