মুদ্রণ

সময়মতো হাসপাতালে যান না মায়েরা

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ৩০.০৯.২০১৫

পাবনা সদর হাসপাতালে গত আগস্ট মাসে ৪৬ নবজাতক মারা গেছে।

এর মধ্যে ৩১ শিশুর জন্ম হয়েছিল নিজেদের বাড়িতেই। জন্মের সময় হওয়া ত্রুটি নিয়ে এসব শিশু হাসপাতালে আসার পর মারা যায়। ওই মাসেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে সদর হাসপাতালে মারা যান পাঁচ মা। চলতি মাসে একই ঘটনায় মারা গেছেন আরো নয় নবজাতক ও তিনজন মা। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রসবকালীন ত্রুটির কারণে নবজাতকের মৃত্যু ঘটছে। অসচেতনতা, অশিক্ষার কারণে এখনো শিশু জন্মদানের জন্য মায়েদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে না। আর এমন সময় এসব শিশু ও মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে তখন আর কিছু করার থাকে না। হাসপাতালের তথ্য থেকে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয় এক হাজার ৪৫০ শিশু। এদের মধ্যে ৪৬ জন মারা যায়। মারা যাওয়া নবজাতকের মধ্যে ১৫ জন শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ার কারণে ১৫ জন, ছয়জন তীব্র নিউমোনিয়ায় ও ১০ জন অন্যান্য কারণে মারা যায়। হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুর জন্ম বাসায় হয়েছে, হাসপাতালে নয়।গত আগস্ট মাসে গাইনি বিভাগে এক হাজার ১৭১ জন গর্ভবতী নারী ভর্তি হন। এদের মধ্যে ৪৪৪ জনের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। ১১২ জন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব করেছেন। আর চারজনের জরায়ু সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার হয়। এদের মধ্যে প্রসবের সময় ১৫টি নবজাতক ও পাঁচজন মা মারা যান। একই মাসে বাকি ৩১ শিশু মারা গেছে হাসপাতালে ভর্তির পর এবং প্রসবের পর অন্য জটিলতায়। এদিকে চলতি ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো তিনজন মাসহ নয় শিশুর মৃত্যু হয়।পাবনা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের পরামর্শক শাহিন ফেরদৌস শানু বলেন, ‘এক মাসে ৪৬ নবজাতক এবং পাঁচ মায়ের মৃত্যু নিয়ে আমরাও চিন্তিত। শিশু গর্ভে আসার পর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে থাকা উচিত। কিন্তু অশিক্ষা, দরিদ্রতা ও নানা কুসংস্কারের কারণে মায়েরা আসেন অনেক পরে। তখন আর চিকিৎসকদের করার কিছু থাকে না। এ কারণেই এ সব মৃত্যু ঘটেছে।’পাবনা সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের পরামর্শক নীতিশ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘পুষ্টিহীনতা, কম ওজন নিয়ে জন্ম, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এমন জটিল অবস্থায় এসব শিশুকে হাসপাতালে আনা হয় তখন আর চিকিৎসকদের তেমন কিছু করার থাকে না।’ 

অপর্যাপ্ত শয্যাসংখ্যা

পাবনা সদর হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২৫০টি। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ৩৬টি শয্যা আছে। ৩৬ শয্যার বিপরীতে মঙ্গলবার রোগী ছিল ২১০ শিশু। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ৩৬ শয্যার বিপরীতে প্রায়ই ২০০ থেকে ২১০ শিশু রোগী থাকে। সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের শয্যাসংখ্যা ৩৬। এর বিপরীতে রোগী ভর্তি হয় দেড়শ থেকে দুইশ।