Saturday 3rd of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে স্মার্ট বেড়া,উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিএসএফ টহল***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

বিটুমিন পোড়া গন্ধ-ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ০২.০৪.২০১৬

সপ্তাহ খানেক ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল-হরিপুর সড়কের পাশের হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন একজন ঠিকাদার।

এতে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা l ছবি: প্রথম আলোপাকা সড়কের পাশে বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মাঠের এক অংশে পাথরের স্তূপ, অন্য পাশে বিটুমিনের ড্রামের সারি। তার পাশে একটি যন্ত্র বসিয়ে বিকট শব্দে তৈরি করা হচ্ছে পাথর-বিটুমিনের মিশ্রণ। ওই যন্ত্রের পাশে স্থাপন করা হয়েছে বিটুমিন গলানোর চুলা। মিশ্রণযন্ত্র ও চুলার কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয় এলাকায়। এই বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সপ্তাহ খানেক ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল-হরিপুর সড়কের পাশের হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের চিত্র এটি। ওই মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন রানীশংকৈলের লেহেম্বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মো. রওশন আলী।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রানীশংকৈল-হরিপুর সড়কের বলিদ্বারা বাজার থেকে হাড়িয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করার জন্য সওজ দরপত্র আহ্বান করে। কাজটি পেয়ে ঠিকাদার গত ২২ মার্চ হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সড়ক সংস্কারের ওই নির্মাণসামগ্রী রাখেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের দক্ষিণ পাশের মাঠে কয়েকটি স্থানে পাথরের স্তূপ। স্তূপের পাশে মেশিনে মেশানো হচ্ছে পাথর ও বিটুমিন। এতে মেশিনের বিকট শব্দ হচ্ছে। পাশেই জ্বলছে বিটুমিন গলানো আগুনের চুলা। চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রাবারের স্যান্ডেল। এই চুলা ও মেশিনের কালো ধোঁয়ায় পুরো বিদ্যালয় ভবন এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। তারই মধ্যে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠ।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলে, ‘পিচ পোড়া গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কারণে অনেক সময় ক্লাসে বসে থাকা যায় না।’ পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার বলে, ‘আগে বিরতির সময় আমরা মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন বিদ্যালয়ের মাঠে পিচ পোড়ানোর কাজ চলায় সাত দিন ধরে খেলতে পারি না।’ চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাহিন বলে, তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। বিদ্যালয়ে বিটুমিন পোড়ার ধোঁয়া ও গন্ধে শ্বাসকষ্টের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়।
ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য ঠিকাদারের লোকজন অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা অনুমতি দিইনি। এরপরও ঠিকাদার মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন।’
সড়ক সংস্কারের কাজের দায়িত্বে থাকা সোলেমান আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, এলাকায় অন্য কোনো ফাঁকা মাঠ না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। তিন-চার দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. রওশন আলী বলেন, ‘যদি শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হয়, তা হলে নির্মাণসামগ্রী সেখান থেকে সরিয়ে নেব।’
রানীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউই আমাকে বিষয়টি জানাননি। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’