Sunday 30th of April 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** শিবগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নিহত চারজনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন * রাজশাহীতে অফিসার্স মেসে সহকারী পুলিশ কমিশনারের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ * যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন আবৃত্তিশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ ক্লিনিক্যালি ডেড, বলেছেন তার মেয়ে * গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় বাবা-মেয়ে নিহত * দিনাজপুরে চাল কলে বয়লার বিস্ফোরণে আহত আরও একজনের মৃত্যু, মোট নিহত ১৬ * পটুয়াখালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জলদস্যু আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর আত্মসমর্পণ * ঝড়ে সিলেট স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষতি, ভেঙে পড়েছে অবকাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাচ * প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

চোখ জুড়ানো হাতপাখা

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৮.০৪.২০১৬

তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, আরো কিছু সময় তুমি থাকো আমার পাশে’- এ গান শোনেননি বা হাতপাখা দেখেননি- এমন মানুষ মেলা ভার।

তা তিনি যতো বড় শহুরে মানুষই হোন না কেন! হাতপাখা বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যেরই অংশ। এ হাতপাখার রকমফেরও অনেক। কোনোটা নিছকই তালপাতার পাখা, যার কাজ শুধুই গরম থেকে রক্ষা করা। আবার এমন হাতপাখাও আছে, যা শুধু বাতাসই দেয়, না সৌন্দর্য গুণেও অনন্য। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখার মতো যে পাখা সেটি রঙিন সুতোর ‘নকশি পাখা’। অনেকটা নকশিকাঁথার মতো। তবে পাখার জমিন যেহেতু ছোট, সেহেতু সেখানে কারুকাজের সুযোগও কম। তবে সুতো দিয়েই পাখার গায়ে পাখি, ফুল, লতা-পাতা কিংবা ভালোবাসার মানুষের নাম অথবা ভালোবাসার চিহ্ন ফুটিয়ে তোলা হয়। পাখার বাতাসে প্রাণ যেমন জুড়ায়, তেমনি বাহারি সব পাখা দেখে চোখও জুড়ায়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিপ্লব ও লোডশেডিং কমে যাওয়ায় পাখার ব্যবহার কমে গেলেও আজও দেশের কিছু অঞ্চলে তা তৈরি ও বিক্রি হয়। দেশের ময়মনসিংহ ও নরসিংদী অঞ্চলে এ পাখা এখনও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। রংপুর, দিনাজপুরসহ বিক্রি হয় দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায়ও। নকশা করা এসব পাখা বিক্রি হয় ১০০ টাকা ১৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া দেখা যায় কাপড়ের পাখা, বাঁশের চাটাইয়ের রঙিন পাখা, তালপাতার পাখা, ভাজ পাখা বা মোবাইল পাখা, ঘুরানি পাখা। রংপুরের কাঁচারি বাজার এ ধরনের পাখা বিক্রিতে প্রসিদ্ধ। সড়কের পাশেই পাখার পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। তাদের কেউ কেউ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরেই এখানে পাখার ব্যবসা করে আসছেন। শীতের তিন-চার মাস বাদ দিয়ে বছরের বাকি সময় জুড়েই এখানে পাখা বিক্রি হয়। কাঁচারি বাজারের পাখা বিক্রেতা মাসুদ রানা জানান, ১৯৮৯ সালের পনেরই জুন থেকে তিনি এখানে পাখা বিক্রি করছেন। সারা বছরই তিনি পাখা বিক্রি করেন। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্তই মূলত বেচা-কেনা থাকে। শীতের সময় শীতকালীন কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করেন, তবে নকশি পাখাও রাখেন। কেউ চাইলে যেন দিতে পারেন। আর এসব পাখা তৈরিতেও প্রসিদ্ধ দেশের একেকটি অঞ্চল যেমন নওগাঁর শান্তাহারের তালপাতার পাখা। এ অঞ্চলে শুধু পাখা তৈরির জন্যই বিশেষ ধরনের তালগাছের চাষ করা হয়। এছাড়া কাপড়ের পাখা তৈরি হয়  রংপুরের তারাগঞ্জ, পীরগাছা ও বদরগঞ্জে। মোবাইল পাখা তৈরি হয় বগুড়ায়। কালীগঞ্জে তৈরি হয় বাঁশের পাখা। এসব পাখার দাম সাধারণত ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।