Print

হাইকোর্টের আদেশের পরও ছাত্রত্ব ফিরে না পাওয়ার অভিযোগ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৬.০৫.২০১৬

অসুস্থতার কারণে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় গত বছরের এপ্রিল মাসে

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানার ছাত্রত্ব বাতিল করে প্রশাসন। কিন্তু এ আদেশের বিরুদ্ধে ওই ছাত্র হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে বিচারক তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশ গত চার মাসেও বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ সোহেল রানার। শুধু তাই নয় মামলা তুলে নিতে দুই দফায় প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ওই শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, শহীদ মুখতার এলাহি ছাত্রাবাসে থাকাকালীন ২০১৩ সালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কোমরে অস্ত্রোপচার করার কারণে প্রায় দুই বছর তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও গত বছরের এপ্রিল মাসে তার ছাত্রত্ব বাতিল করে দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে সোহেল রানা হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সোহেল রানার তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের স্থগিত করে রাখা ফলাফল প্রকাশ এবং তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি করে নিয়ে তাকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগদানের আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত না করায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর রুল জারি করেন। সেইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে সোহেল রানার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করে সোহেল রানাকে বিভিন্নভাবে ঘোরাতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বছরের ২০ এপ্রিল আদালতের সর্বশেষ আদেশের কপিসহ আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দফতরে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে তা রিসিভড করিয়ে নেন সোহেল রানা। কিন্তু ওই দিন দুপুর ২টা থেকে রাত অনুমানিক ৮টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের দফতরের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন সোহেল রানাকে আটকে রাখেন। হাইকোর্টের রিট পিটিশন তুলে নেওয়া না হলে তাকে লেখাপড়ার করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানোর কথা বললে সোহেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরের দিন রেজিস্ট্রার অফিসের সেকশন অফিসার তাপস কুমার গোস্বামীর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক সোহেলকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে আসেন। সেদিনও দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে হাইকোর্টের রিট তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় সব ঘটনা উল্লেখ করে গত ২৯ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সোহেল রানা যার নম্বর ১৮৭৮। থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জিডির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার দফতরের সেকশন অফিসার তাপস কুমার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বলেন, তাকে (সোহেল রানা) ভর্তি করে নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, তিনি অসুস্থ থাকার পরেও তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা মানছে না। তাদের সাফ কথা আগে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এজন্য দু’দফায় তাকে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে নানা হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাকে নাকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে, কখনও পাস করতে দেওয়া হবে না।এ ব্যাপারে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র জানান, ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করার সময় তিনি এই বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন না। তবে হাইকোর্টের নির্দেশ তারা পেয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেজন্য আপাতত তাদের কিছু করার নেই বলে জানান বিভাগীয় প্রধান।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম কবীর জানান, সোহেল রানার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে কবে নাগাদ এসব প্রক্রিয়া শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।