আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন * শোকের দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন চলতে থাকলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা নয়: কাদের * মৌলভীবাজারের রাজনগরে যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীর ওপর হামলার অভিযোগ * গাজীপুরের টঙ্গীর রাস্তায় দুইজনের লাশ; পুলিশের ধারণা, তারা গাড়িচাপায় নিহত হয়েছে * ঢাকার পান্থপথে একটি আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযানে সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত * আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ওই ‘জঙ্গি’সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটায়: পুলিশ * নিহত যুবক খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র, বাড়ি ডুমুরিয়ায়; পুলিশ বলছে, সে নব্য জেএমবির সদস্য

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

পায়ে লিখে মাথায় তোলা ফল!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০৫.২০১৬

শারীরিক প্রতিবন্ধীতা বা দরিদ্রতা-কোনোটাই দমাতে পারেনি তাকে। সেই ছোট্টবেলায় আর দশটা শিশুর যেমন হাতেখড়ি হয় ঠিক তেমনটি হয়নি তার ক্ষেত্রে।

অন্যরা যখন হাতে পেন্সিল বা কলম ধরে লিখতে শুরু করেছিল তখন সে কলম আঁকড়ে ধরেছিল পা দিয়ে। কারণ তার দুটি হাত অচল ছিল জন্ম থেকেই।

প্রথম শ্রেণিতে সেই যে পায়ে লেখা শুরু সেটা থামেনি আজো। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক। এরপর পায়ে লিখেই সে অংশ নেয় এসএসসি পরীক্ষায়। ফলও আসে তার পক্ষে, সে এবার জিপিএ ৪ দশমিক ১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে পরিবার, স্কুলসহ প্রতিবেশীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

সে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোড়ারপুল শাহীটারী গ্রামের আব্দুল আলীর মেয়ে আরিফা খাতুন। সে ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। 

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জন্ম থেকেই অচল আরিফার দুটি হাত। তবু পড়াশোনার অদম্য বাসনা নিয়ে সে ভর্তি হয় ব্র্যাক পরিচালিত স্থানীয় একটি স্কুলে। হাত দিয়ে সম্ভব না হওয়ায় পা দিয়েই লেখা শুরু করে। এভাবেই প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবার সে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর পা দিয়ে লিখেই সে এসএসসিতে ৪ দশমিক ১১ পেয়ে পাস করেছে।

আরিফা খাতুনের শিক্ষকরা জানান, আরিফা বেশ মেধাবী। খুব সহজেই সে যেকোনো পড়া মুখস্ত করতে পারে। আর পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম ধরে অনায়াসে লিখতেও পারে। পা দিয়ে লিখলেও অন্যের হাতের লেখার মতো তা সুন্দর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আরিফা খাতুন। বাবা আব্দুল আলী তালা-চাবি মেরামত করে সংসার চালান। আর মা মমতাজ বেগম গৃহস্থালীর কাজ করেন। বাবার সামান্য আয়ে সংসারের খরচের পাশাপশি কোনো রকমে জোটে আরিফার লেখাপড়ার খরচ।