Monday 1st of May 2017

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** রোজা সামনে রেখে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু ১৫ মে; ২৮১১ জন পরিবেশক ও ১৮৫ ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে চিনি * হাওরে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী * ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলা, সংঘর্ষে নিহত ১ * অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ বিভাগের নাম এখন শুধু ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান’* সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার * নিউ ইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ও আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফের জানাজা, মরদেহ দেশে আসবে মঙ্গলবার

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

পায়ে লিখে মাথায় তোলা ফল!

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১২.০৫.২০১৬

শারীরিক প্রতিবন্ধীতা বা দরিদ্রতা-কোনোটাই দমাতে পারেনি তাকে। সেই ছোট্টবেলায় আর দশটা শিশুর যেমন হাতেখড়ি হয় ঠিক তেমনটি হয়নি তার ক্ষেত্রে।

অন্যরা যখন হাতে পেন্সিল বা কলম ধরে লিখতে শুরু করেছিল তখন সে কলম আঁকড়ে ধরেছিল পা দিয়ে। কারণ তার দুটি হাত অচল ছিল জন্ম থেকেই।

প্রথম শ্রেণিতে সেই যে পায়ে লেখা শুরু সেটা থামেনি আজো। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক। এরপর পায়ে লিখেই সে অংশ নেয় এসএসসি পরীক্ষায়। ফলও আসে তার পক্ষে, সে এবার জিপিএ ৪ দশমিক ১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে পরিবার, স্কুলসহ প্রতিবেশীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

সে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোড়ারপুল শাহীটারী গ্রামের আব্দুল আলীর মেয়ে আরিফা খাতুন। সে ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। 

বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জন্ম থেকেই অচল আরিফার দুটি হাত। তবু পড়াশোনার অদম্য বাসনা নিয়ে সে ভর্তি হয় ব্র্যাক পরিচালিত স্থানীয় একটি স্কুলে। হাত দিয়ে সম্ভব না হওয়ায় পা দিয়েই লেখা শুরু করে। এভাবেই প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবার সে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর পা দিয়ে লিখেই সে এসএসসিতে ৪ দশমিক ১১ পেয়ে পাস করেছে।

আরিফা খাতুনের শিক্ষকরা জানান, আরিফা বেশ মেধাবী। খুব সহজেই সে যেকোনো পড়া মুখস্ত করতে পারে। আর পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম ধরে অনায়াসে লিখতেও পারে। পা দিয়ে লিখলেও অন্যের হাতের লেখার মতো তা সুন্দর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আরিফা খাতুন। বাবা আব্দুল আলী তালা-চাবি মেরামত করে সংসার চালান। আর মা মমতাজ বেগম গৃহস্থালীর কাজ করেন। বাবার সামান্য আয়ে সংসারের খরচের পাশাপশি কোনো রকমে জোটে আরিফার লেখাপড়ার খরচ।