Print

বিডিনিউজডেস্ক.কম
তারিখঃ২১.০৩.২০১৫

সিলেটে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বলি হয়ে ৭ মাস ধরে নিখোঁজ এক স্বামী। এ ঘটনায় পুলিশ স্ত্রীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেও এখনও খোঁজ মিলেনি হতভাগা ওই স্বামীর।

গত ১৩ই মার্চ থেকে ১৯শে মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুলিশ এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- নগরীর কদমতলীর লীনা বকস, দরগাহ রাজারগলির ফারজানা বকস রাহেনা ও নবীগঞ্জের জাবেদ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর দরগা মহল্লার বাসিন্দা সাইফুদ্দিন পলাশের সঙ্গে লীনা বকসের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে লীনার সঙ্গে তার পলাশের খালাতো ভাই অনিকের পরকীয়া শুরু হয়। পলাশ বাধা দিলে লীনা পাল্টা বাগবিতণ্ডা করে। পরে লীনার প্ররোচনায় অনিক ও তার বন্ধু জাবেদসহ কয়েক জন গত বছরের ৩১শে আগস্ট নগরীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলী থেকে পলাশকে অপহরণ করে। কিছুদিন পর স্ত্রী লীনা বকসও বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যায়।
ওইদিনই পলাশের মা রীনা বকস ওইদিন দক্ষিণ সুরমা থানায় লীনা বকস, লীনার পরকীয়া প্রেমিক অনিক বকস, অনিকের মা ফারজানা বকস ও বন্ধু জাবেদকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
ঘটনার পর থেকে তদন্ত ও অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। খুঁজতে থাকে নিখোঁজ পলাশের স্ত্রী লীনাকে। কিন্তু তার কোন ঠিকানা মিলেনি। দীর্ঘ ৭ মাস পর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ গত ১৩ই মার্চ নগরীর শাহজালাল উপশহর থেকে স্ত্রী লীনা বকসকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে পলাশ নিখোঁজের নেপথ্য কারণ।
লীনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার নবীগঞ্জ থেকে অনিকের বন্ধু জাবেদকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তার দেয়া তথ্যমতে নগরীর দরগাহ গেট থেকে অনিকের মা ফারজানা বকস রাহেনাকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। প্রথমিক জিজ্ঞাসাবদে তারা পলাশ নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পরকীয়া ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পলাশকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। প্রেমিকা লীনাসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও প্রেমিক অনিক পলাতক রয়েছে এবং হতভাগা পলাশের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। পলাতক অনিক ও নিখোঁজ পলাশের তথ্য বের করতে গ্রেপ্তারকৃত লীনাসহ তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন দক্ষিণ সুরমার কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম খান।