Print

গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, প্রাণ গেল পাঁচ মাসের শিশুর

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২২.০৩.২০১৬

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মশাজান-নোয়াবাদ গ্রামে বালু উত্তোলন নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় নিহত হয়েছে পাঁচ মাসের এক শিশু।

গত রোববার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। নিহত তাসপিয়া প্রমি গ্রামের আম্বর আলীর মেয়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মশাজান-নোয়াবাদ গ্রামের পাশের খোয়াই নদ থেকে চার মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুসা আহমেদ, নুরুজ্জামান জাকি ও সাব্বির আহমেদ; স্থানীয় লস্করপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নোমান, ছাত্রলীগ নেতা সাইদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। তাঁদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে বালু উত্তোলন দেখাশোনা করতেন নোয়াবাদ গ্রামের কদর আলী এবং তাঁর দুই ছেলে আম্বর আলী ও ফরহাদ।
শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন একই গ্রামের মন্নর আলীসহ আরও কয়েকজন বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁরা বালু উত্তোলনে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এনে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। গত শনিবার ছাত্রলীগ নেতারা বালু উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগের সাতজন নেতা-কর্মী আহত হন।
ওই ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা মুসা আহমেদ বাদী হয়ে মন্নর আলীসহ ২৮ জনের নামে হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামি ধরতে গত রোববার রাতে পুলিশের একটি দল নোয়াবাদ গ্রামে যায়। এ সময় গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। গ্রামবাসী পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। বালুর ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কদর আলী এবং তাঁর লোকজনের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে গ্রামবাসীর। এ সময় গ্রামের পাঁচ মাসের শিশু তাসপিয়া প্রমি, পুলিশের তিন সদস্যসহ ১১ জন আহত হন। তাসপিয়াকে হবিগঞ্জ সদর জেলা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, মাথায় আঘাতজনিত কারণে শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত শিশুর বাবা আম্বর আলী অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় মন্নর আলী ও তাঁর লোকজন মায়ের কোল থেকে শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে মারেন।
অভিযুক্ত মন্নর আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শিশু হত্যার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। তাঁরা অন্যায়ভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতিবাদ করেছেন। অভিভাবকেরা নিজেরাই শিশুটিকে হত্যা করে তাঁদের অভিযুক্ত করছেন।
গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রউফ গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, কদর আলীর বাড়ির পাশে কিছু জমি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিরোধ ছিল। কদর আলী নিজের জমি দাবি করলেও গ্রামবাসীর দাবি, জমিটি গ্রামের কবরস্থানের জন্য। বালু পরিবহন করতে গিয়ে ওই জায়গার কিছু গাছ কেটে ফেলে ছাত্রলীগের লোকজন। এ গাছ কাটা নিয়েই ছাত্রলীগ নেতা ও কদর আলীদের সঙ্গে বিরোধ বাধে গ্রামবাসীর।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন বলেন, খোয়াই নদ থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে গ্রামের কিছু মানুষের বিরোধ বাধে। বিরোধ থেকে সংঘর্ষের জেরে শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহিদা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
ছাত্রলীগ নেতা মুসা আহমেদ বলেন, তাঁরা বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এলাকার মন্নর আলী ও বাবর আলী অন্যায়ভাবে তাঁদের বাধা দেন এবং হামলা চালান। পুলিশ আসামি ধরতে গেলে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।