Print

যুক্তরাজ্য থেকে যেভাবে সিলেট আসে শুল্ক ফাঁকির গাড়ি

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | ১৫.০৪.২০১৬

সিলেটের রাস্তায় প্রায়ই দেখা মিলে কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি।

গাড়িতে নাম্বার প্লেট লাগানো থাকায় সন্দেহের বাইরে থেকে যায় গাড়িগুলো।‘বড়লোকের গাড়ি’ বলে পুলিশ-বিআরটিএ কর্মকর্তারাও এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামায় না।কিন্তু এসব গাড়ির বেশিরভাগই দেশে আনা হয়েছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে।যুক্তরাজ্য থেকে কারনেট সুবিধা নিয়ে আনা গাড়িগুলো পরে আর ফিরিয়ে নেয়া হয়নি সেদেশে।পরবর্তীতে কেউ কেউ বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে জাল কাগজপত্র দিয়ে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছেন গাড়িগুলো।আবার অনেকে ভূয়া নাম্বার ব্যবহার করে চালাচ্ছেন দামি এসব গাড়ি।গত বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর মজুমদারিতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের শুল্ক ফাঁকির মার্সিডিজ ব্রেঞ্জ মডেলের গাড়ির সন্ধান পাওয়ার পর ভূয়া রেজিস্ট্রেশনে সিলেটে চলাচলকারী কোটি টাকার গাড়িগুলো উধাও হয়ে যাওয়ার ৩৬ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।জানা যায়- যুক্তরাজ্যে কারনেট নামক একটি আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল কোম্পানি যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের অন্য দেশে বেড়াতে গেলে ২৪ মাসের জন্য দামি গাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকে। কারনেটের মাধ্যমে আনা পর্যটক গাড়ি বাংলাদেশে আনতে পোর্ট ফি ছাড়া কোন শুল্ক দিতে হয় না।অথচ যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করতে হলে গাড়ির ধরণ ভেদে ৩০০ থেকে ৮০০ ভাগ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। কারনেটের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী অনেক সিলেটী দেশে দামি গাড়ি নিয়ে আসেন।নিয়ম অনুযায়ী ২৪ মাস পর যুক্তরাজ্যে কারনেট কোম্পানিকে তাদের গাড়িগুলো ফিরিয়ে দিতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ প্রবাসী শুল্ক ছাড়া গাড়িগুলো সিলেটে এনে তা আর যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেন না।বাংলাদেশে অবস্থানকালে গাড়ি চুরি হয়েছে বা দুর্ঘটনায় বিকল হয়ে গেছে এমন অজুহাত দেখান কারনেটকে।এক্ষেত্রে তারা ভূয়া পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকেন।দুর্ঘটনায় গাড়ি চলাচল অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা পুলিশ প্রতিবেদনের পাশাপাশি ফটোশপের মাধ্যমে গাড়ির দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ছবিও উপস্থাপন করেন।পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে কারনেটের সাথে গাড়ির মূল্য দফারফা করা হয়।  এদিকে, কারনেট সুবিধা নিয়ে দেশে আনা গাড়িগুলো প্রবাসীরা দেশে রেখেই ফিরে যান। পরবর্তীতে এ গাড়িগুলো বিআরটিএ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়া হয়। যারা কাগজপত্র তৈরি করতে পারেন না তারা ভূয়া নাম্বার লাগিয়ে গাড়ি হাকিয়ে চলেন। সিলেটে এভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর।সিলেটের সুতারকান্দি শুল্ক স্টেশন দিয়ে আনা প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের দুইটি পাজারো গাড়ি উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার নগরীর মজুমদারিস্থ বিএম টাওয়ারের পার্কিংয়ে দুইকোটি টাকা মূল্যের মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি কারের সন্ধান পান শুল্ক গোয়েন্দারা।বৃহস্পতিবার গাড়ির ছবি তুলে নিয়ে আসেন তারা।শুক্রবার সকালে গাড়িটি আটক করতে গিয়ে সেখানে আর পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার রাতে ওই গাড়িটি আটক করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ জানান- সিলেটে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বেশ কয়েকটি গাড়ি চলাচল করছে। শুক্রবার মজুমদারিতে অভিযানের পর থেকে গাড়িগুলো সিলেট থেকে উধাও হয়ে যাওয়া গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বাকি গাড়িগুলো আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।