মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১৭.০৮.২০১৫

সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি করেছেন তার বাবা শেখ আজিজুল আলম।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের এক মাস আট দিনের মাথায় আজ রোববার বিকেলে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর পরই এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শেখ আজিজুল আলম। তবে দ্রুততম সময়ে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ায় তিনি সন্তোষও প্রকাশ করেন। তবে কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে না আনায় তিনি ‘আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ’ বলেও জানান। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগ দাখিলের আগে তাঁকে জানাননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজনের বাবা। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ডিবির পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার মহানগর মুখ্য হাকিম ২-এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমীনের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার প্রধান আসামি কামরুল সৌদি আরবে আটক রয়েছেন। অভিযোগপত্রে তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত পাভেল ও শামীমকেও পলাতক দেখানো হয়েছে। মোট তিনজনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হচ্ছেন আজমত উল্লাহ, মুহিত আলম, নূর আহম্মদ, আলী হোসেন, রুহুল আমীন, চৌকিদার ময়না মিয়া, দুলাল আহমদ, তাজ উদ্দিন বাদল, ফিরোজ মিয়া ও আয়াজ আলী। কারাগারে আটক ১২ জনের মধ্যে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কামরুলের ভাবি লিপি বেগম ও তাঁর ভাই ইসমাইল হোসেন আবলুসের বিরুদ্ধে কোনো দোষ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আজ বিকেলে মামলার বাদী রাজনের বাবা শেখ আজিজুল আলম বলেন, ‘কামরুল যত দিন দেশে না ফিরছে তত দিন আমার আত্মা শান্তি পাবে না। আমার বাচ্চার (রাজন) আত্মাও শান্তি পাবে না। কামরুল দেশে না আসলে হয়তো আমিও বাঁচব না। আমি এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।’ রাজনের বাবা অভিযোগ করেন, ‘কামরুল প্রধান আসামি। সে কীভাবে বিদেশে গেল। আমি দরখাস্ত দেওয়ার পরেও। এর হদিস তো আমি এখনো পাইনি। কামরুলকে বিদেশে রেখে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, আমি খুশী আছি। কিন্তু তারে দেশে না আনা পর্যন্ত আমার শান্তি নাই।’ ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমার বাড়িতে কয়েকদিন আসছে। কিন্তু অভিযোগপত্র সম্পর্কে আমারে কিছুই জানায়নি।’ যোগ করেন রাজনের বাবা। গত ৮ জুলাই সিলেট শহরতলির কুমারগাঁওয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মুঠোফোনে নির্যাতনের ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয়। রাজনের লাশ গুম করার সময় মুহিত আলম নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রাজনের বাবা হত্যা মামলা করতে চাইলে প্রথম তিনদিন পুলিশ ও স্থানীয় দালাল চক্র মামলা করতে বাধা দেয়। পরে ইন্টারনেটে রাজন হত্যার নির্যাতনের ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। রাজনের বাবার মামলা নেয় পুলিশ। ততক্ষণে রাজনের অন্যতম নির্যাতনকারী কামরুল পালিয়ে সৌদি আরব চলে যান। পরে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। এরপর রাজন হত্যা মামলায় একে একে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঁদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রাজন হত্যাকাণ্ডে মামলা দায়েরে বিলম্ব ও অন্যতম আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করার প্রমাণ পাওয়ায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এঁরা হলেন জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।